banner

শেষ আপডেট ২০ অগাস্ট ২০১৮,  ২১:৫৩  ||   মঙ্গলবার, ২১ই আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৬ ভাদ্র ১৪২৫

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে– শেখ হাসিনা

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে– শেখ হাসিনা

৩ জুন ২০১৮ | ২০:১১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে– শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে জঙ্গি নির্মূলের সময় ইমাম, শিক্ষক ও অভিভাবকরা যেমন ভূমিকা রেখেছিলেন সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতেও তাদের অনুরূপ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে দেশের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ রোববার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির ৪টি মাল্টিপারপাস ইনল্যান্ড কন্টেইনারবাহী জাহাজ, মুন্সিগঞ্জ-গজারিয়ার মধ্যে চারটি ফেরি সার্ভিস এবং বিআইডব্লিউটিএ’র চারটি ৮ইঞ্চি কাটার সাকশন এম্ফিরিয়ান ড্রেজার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
প্রধানমন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আরেও বলেন, ‘আপনার সন্তান কার সঙ্গে চলাফেরা বা ওঠাবসা করছে তা অবশ্যই আপনারা খেয়াল রাখবেন। যাদের সঙ্গে মেলামেশা করে তারা মাদকসেবী কি-না সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে ‘

প্রধানমন্ত্রী গজারিয়াবাসীর জন্য ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করে তাদের ঈদ উপহার দেন।
মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও বিভিন্ন নদী বিধৌত এলাকার জনগণের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, নদীকে যে কোনো মূল্যে বাঁচাতে হবে। কারণ নদী সচল না থাকলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। বঙ্গবন্ধু বলতেন, নদী হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাণ। নদী না থাকলে বাংলাদেশ থাকবে না। মানুষের শরীরে রক্তনালী দিয়ে যেমন রক্ত প্রবাহিত হয়, আর রক্ত প্রবাহ বন্ধ হলে মানুষ মারা যায়। তেমনি বিভিন্ন নদী মরে গেলে দেশও মরে যাবে। তাই নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌপরিবহনের মাধ্যমে নদীপথে যত সস্তায় মামামাল আনানেয়া ও মানুষজন চলাচল করতে পারে এত সহজে ও সস্তায় অন্য কোনো পথে তা সম্ভব হয় না। সড়ক পথে যেমন বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়, তেমনি নৌপথেও যেন যাওয়া যায় সে ব্যবস্থা আমরা করবো। প্রতিটি নদীকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল করা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি খুলনা শিপইয়ার্ড বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর চালু করেছি। এছাড়া তারা মংলা বন্দরও বন্ধ করে দিয়েছিল। সুন্দরবনকে ঘিরে এবং এর আশপাশ দিয়ে প্রায় আড়াইশ’ খাল প্রবাহিত ছিল। বিএনপি আমলে এসব খাল দখল ও মুখ বন্ধ করে চিংড়ি চাষ করা হয়েছে। এখনও ৮০টি খালের মুখ বন্ধ আছে। সুন্দরবনের ভেতর থেকে এসে সালনা নদীতে পানি খেতো বাঘ। সেটাও তারা বন্ধ করে দিয়েছিল।
মুন্সিগঞ্জের বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় অর্ধশত বছর থেকে শুনছি মুন্সিগঞ্জে একই স্থান থেকে বালু উত্তলন করা হয়। এটা না করে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে। তাহলে ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে বিভিন্ন জনপদ।

তিনি বলেন, মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন প্রকারের আলু যেন প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে রফতানি করা যেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া এখানকার কলা এবং অন্যান্য ফসল যাতে ঠিক মতো হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প যাতে গড়ে ওঠে সে ব্যবস্থাও করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় মুন্সিগঞ্জের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পও গড়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। কেউ আর বাংলাদেশকে গরিব, ভিক্ষুকের দেশ বলে অবহেলার চোখে তাকাতে পারবে না। আমরা দেশকে একটা সম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছি। বাংলাদেশের মানুষ এখন যেখানেই যাক মাথা উঁচু করে চলবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির অত্যাচার নির্যাতন ও গত নির্বাচনের পর এবং আগে পেট্রোল বোমার আগুন দিয়ে মানুষ মারাসহ বিএনপির অত্যাচার নির্যাতনের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।