banner

শেষ আপডেট ১৫ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:৩৪  ||   সোমবার, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির শিকার সেবা গ্রহীতারা

মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির শিকার সেবা গ্রহীতারা

২১ মে ২০১৮ | ২১:২৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির শিকার সেবা গ্রহীতারা

ক্রাইম প্রতিবেদক : নগরীর মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস ও পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। পাসপোর্ট অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। দালাল ছাড়া ফরম জমা দিতে গেলে বিভিন্ন ছল-ছাতুরির মাধ্যমে বাতিল করা হয়। অনেকে ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফরম জমা দেন। দালালের খপ্পরে পড়তে বাধ্য হন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দালালরা ফরম জমাদানের সময় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করেন। এ সাংকেতিক চিহ্ন দেয়া ফরম অনায়াসেই গ্রহণ করা হয়। বিশেষ চিহ্ন না থাকলে হরেক রকম ভুলের অজুহাতে ফরম ফেরত দেয়া হয়। এছাড়া নগর ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে যাচাইয়ের (পিভিআর) নামে যথেচ্ছ হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জমা দেয়া আবেদনপত্রে বিশেষ চিহ্ন দেখলেই পাসপোর্ট অফিস এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী যা বুঝার বুঝে নেন। এজন্য দালালদের পুলিশের বিশেষ শাখা ও পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট হারে টাকা গুনতে হয়।

নগরীর মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সেবা গ্রহীতাদের অনেক ভিড়। এ সময় লাইনে দাঁড়ানো শহরতলীর মদুনাঘাট থেকে আসা মাহবুবুল আলম দি ক্রাইমকে জানান, অর্ডিনারী (সাধারণ) পাসপোর্টের জন্য এক ট্রাভেল এজেন্সীকে ৬ হাজার ৩শ’ টাকা দিয়েছি। এত টাকা দিয়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে তা দিয়েছি। এজেন্সীর লোকজন বলেছে তারাই সবকিছু করে দেবে।
জানা গেছে, সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা হচ্ছে সরকারি ফি। তবে এক্ষেত্রে দালালরা নিয়ে থাকে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে নেয়া হয় অতিরিক্ত ১১শ’ টাকা। জরুরী পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সরকারি ফি ৬ হাজার ৯শ’ টাকা। দালালরা ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

পাসপোর্ট আবেদনকারীরা বলেছেন, এখানে সবচেয়ে হয়রানির শিকার হতে হয় পুলিশ প্রতিবেদনের (পিভিআর) জন্য। এ হয়রানির কারণে পাসপোর্ট পেতে বিলম্বও ঘটে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে, স্থায়ী ও বর্তমান একই ঠিকানা হলে প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া যায়। আর ঠিকানা দু’টি হলে পুলিশ প্রতিবেদন পেতে সময় লাগে। ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে গিয়ে অনেকে ভুল করে এক নামের টাকা জমা দিতে গিয়ে অন্য নামে ফরম পূরণ করে। সেক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আবার কোনো কোনো সময় ডাক বিভাগ ঢাকা থেকে তৈরীকৃত পাসপোর্ট বিভাগীয় বা আঞ্চলিক অফিসে পাঠাতে বিলম্ব করে।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, পাসপোর্ট অফিস থেকে দেয়া স্লিপে উল্লেখ করা নির্ধারিত সময়ে অনেকেই পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে ২৭ শতাংশ বলেছেন তাদের ১২ দিন অতিরিক্ত সময় লেগেছে। আর সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ পাসপোর্ট করার সময় দালাল বা অন্যের সহযোগিতা নিয়েছেন। আবার তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই দালালের সহযোগিতা নিয়েছেন।

‘পাসপোর্ট নাগরিক অধিকার, নিঃস্বার্থ সেবাই অঙ্গীকার’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকঢোল পিটিয়ে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ পালিত হলেও চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসে সার্বিকভাবে সেবার মান বাড়েনি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের (মনসুরাবাদ) উপ-পরিচালক এ কে এম মাজহারুল ইসলাম দি ক্রাইমকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, অনেক সময় সার্ভার ও ইন্টারনেটের সমস্যার কারণে পাসপোর্ট পেতে দেরী হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশ রিপোর্ট না আসার কারণে পাসপোর্ট পেতে বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা থাকার কারণে সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পুলিশ রিপোর্ট ছাড়া পাসপোর্ট দেয়া সম্ভব হয়না।

তিনি বলেন, আমরা কোন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট দিতে চাই না। ইতোমধ্যে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে পাকড়াও করা হয়েছে। তবে অন্য জেলায় এর ব্যতিক্রম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জেলায় জরুরী পাসপোর্ট পুলিশ প্রতিবেদন ছাড়াও দেয়া হয়ে থাকে। এক প্রশ্নের জবাবে উপ-পরিচালক বলেন, টিআইবিও বলেছে পাসপোর্ট অফিসে আগের চাইতে গুণগত মানের পরিবর্তন হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের দালাল প্রসঙ্গে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, অফিসের ভেতরে এ ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে এটা বাইরে হতে পারে।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক শাহ মোঃ ওয়ালি উল্লাহ দি ক্রাইমকে বলেন, এ অফিসে সেবার মান আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দালাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাসপোর্ট অফিসের দালাল এগুলো পুরনো কথা। এসব মফস্বল এলাকায় হয়ে থাকে। আমাদের কাজ হচ্ছে ফরম জমা নেয়া এবং পাসপোর্ট দেয়া।