banner

শেষ আপডেট ১১ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২২:৪৫  ||   বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরষ্কার’ পেলেন

কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরষ্কার’ পেলেন

১১ মে ২০১৮ | ১৯:১৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরষ্কার’ পেলেন

‘সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরষ্কার ২০১৭’ পেলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল। কল্পবিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে এই পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি গত বছর থেকে এই পুরষ্কারের প্রবর্তন করেছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহাবাগে পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল ২০১৮’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোস্তফা কামালের হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মনোশিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহিত কামাল, বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির সভাপতি মোশতাক আহমেদ, প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সংগঠনের সহ সভাপতি ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের দেশই একমাত্র দেশ যেখানে সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি আছে। আমি অবাক হয়ে অপেক্ষা করছি এই সোসাইটি আর কী কী চমক দেয়? কিছুদিন পর হয়তো পাবলিক লাইব্রেরিতে আর এই ফেস্টিভ্যাল হবে না। তখন যেতে হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। আগে থেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।’

বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ আরো বলেন, ‘একজন লেখক মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করতে পারে। আর যারা সায়েন্স ফিকশন লেখক তারা মানুষের পাশাপাশি যন্ত্রের অনুভূতি নিয়েও লিখতে পারেন। যা অনেক বড় ব্যাপার। আর সায়েন্স ফিকশন শুধু কৌতুহল মেটানোর জন্যই নয় এটা পড়লে ছেলেমেয়েদের বিজ্ঞানের প্রতিও আগ্রহ তৈরি হয়।’

কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমার সায়েন্স ফিকশন লেখালেখি শুরু ২০০২ সালে। এ বিষয়ে প্রথম বই প্রকাশ হয় ২০০৩ সালে। নোবেল পুরষ্কার, জাতীয় পুরষ্কারসহ বিভিন্ন পুরষ্কার নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক উঠে। পুরষ্কারের জন্য ধরাধরি লাগে বলেও শোনা যায়। তাই এখন পুরষ্কার নিতে কিছুটা লজ্জাও লাগে। তবে আমার সত্তায় লেখালেখি। আমি নিজের জন্য লিখি। পাঠকের জন্য লিখি। গত ২৬ বছর ধরে আমি লেখালেখি করছি। কখনো বই প্রকাশের জন্য কোনো প্রকাশকের কাছে যাইনি। সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি আমার কাজের মূল্যায়ন করেছে। যথাসময়ে মূল্যায়ন হলে লেখকদের উৎসাহ বাড়ে, গতি বাড়ে।’

কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক তাঁর আগামীর কল্পনার বিষয়ে বলেন, ‘আমার দুই সন্তান। তারা দু’জন থাকবে দুই গ্রহে। আর আমরা যাবো তাদের সঙ্গে দেখা করতে। এটা আমি এখনই কল্পনা করছি। একইসঙ্গে এটাও আশা করছি, এই সায়েন্স ফিকশন সোসাইটিও একদিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

মোশতাক আহমেদ বলেন, চার বছর আগে সোসাইটির কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। এই সময়ের মধ্যে যে এতদূর যাবো তা কল্পনায়ও ছিল না। এর পেছনে রয়েছে আমাদের ১২ হাজার সদস্যের অনুপ্রেরণা। বিজ্ঞান যে কঠিন জিনিস, তা নয়। বিজ্ঞানকে জানতে হয়, বুঝতে হয়। বিনোদনের মাধ্যমে আমরা বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিতে চাই। ইতিমধ্যেই বাংলা একাডেমি সায়েন্স ফিকশনকে সাহিত্যেও স্বীকৃতি দিয়ে পুরষ্কার প্রবর্তন করেছে। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে আমরা একটি সায়েন্স ফিকশন মুভি তৈরি করতে চাই।’

এবারের ফেস্টিভ্যালে সায়েন্স ফিকশন ছোট গল্প পুরষ্কার পান সাইফ ইমন। এছাড়াও ২০১৭ সালের কাজের স্বীকৃতিতে দু’জনকে দেওয়া হয় ‘ক্রিয়েটিভ মেম্বার পুরষ্কার’। ‘রিবো’ থার্ড জেনারেশন নির্মাতা দলকেও পুরষ্কৃত করা হয়। এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী কৌশলী সাহাকে দেওয়া হয় ‘সায়েন্স ফিকশন মেধা বৃত্তি’।