banner

শেষ আপডেট ১৫ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:৩৪  ||   সোমবার, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হবে

এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হবে

১০ মে ২০১৮ | ০৯:৩৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হবে

২০১৩-১৪ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা দুই লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা করার পর গত তিন বছরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যথেষ্ট বেড়ে গেছে। এ কারণে করমুক্ত আয়সীমা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনের বছরে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই সীমা বাড়ানো হবে, কমানো হবে করপোরেট করহারও। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থনীতিবিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ ইআরএফের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এখন আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় হলে সেই আয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে আয়কর কর দিতে হয়। গত তিন বছরে জিনিসপত্রের দাম গড়ে ৫.৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে করদাতাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও করমুক্ত আয়সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে।

অর্থমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হবে। তবে বাড়িয়ে কত নির্ধারণ করা হবে সে সম্পর্কে কোনো কিছুই বলেননি তিনি। তবে করদাতা ৪০ লাখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে করপোরেট করহার খুবই বেশি। নতুন বাজেটে এটিও কিছু কমানো হবে। এ ছাড়া আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রায় চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে অগ্রাধিকার থাকবে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায়।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকে আমাদের দক্ষ শিক্ষক আছে। উচ্চশিক্ষার অবস্থাও ভালো। তবে মাধ্যমিকে দুরবস্থা চলছে। এরই মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা হয়েছে। আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসতে পারলে মাধ্যমিক শিক্ষা পুরোটাই সরকারীকরণ করা হবে। বাজেটে নতুন স্কুলগুলোকে এমপিও দেওয়া হবে। তাতে বেতনের সঙ্গে অবকাঠামোর বিষয়ও থাকবে। আগামী বাজেটে স্কুল বাস নামানোর বিষয়েও ঘোষণা থাকছে।’

দেশে কালো টাকা বৃদ্ধি ও বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। এটি প্রতিরোধের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বছরের যেকোনো সময়ই ২৫ শতাংশ কর দিয়ে যে কেউ অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে পারেন। এ সুযোগ রয়েছে। আর বিদেশে অর্থপাচার নিয়ে যেভাবে কথা বলা হয়, আসলে পাচার ততটা নয়। একসময় মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে অর্থ পাচার হতো। এখন এই দেশ দুটির সরকারও চায় না অন্য দেশের কেউ অর্থ পাচার করে তাদের দেশে বিনিয়োগ করুক।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, আগামীতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। এ বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত।’ আগামী অর্থবছরের বাজেটই মুহিতের দেওয়া শেষ বাজেট হতে যাচ্ছে। যেকোনো সময়ে অবসরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত—এ কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে ‘শ্রেষ্ঠতম’ বাজেট।