banner

শেষ আপডেট ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮,  ২১:৪৪  ||   বুধবার, ২৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

অনিয়ম ও দুর্নীতির আখঁড়া বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র : প্রতিবছর সরকারের কোটি টাকার ক্ষতি

অনিয়ম ও দুর্নীতির আখঁড়া বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র : প্রতিবছর সরকারের কোটি টাকার ক্ষতি

৯ মে ২০১৮ | ২১:৩৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • অনিয়ম ও দুর্নীতির আখঁড়া বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র :  প্রতিবছর সরকারের কোটি টাকার ক্ষতি

বিশ্বজিৎ পাল :  অনিয়ম, দুর্নীতিতে ভরপুর হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্র। বিনা পরীক্ষায় কণ্ঠশিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী, উপস্থাপক, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক তালিকাভুক্তকরণে এবং তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে শ্রেণিমান প্রদানে চরম অনিয়ম করে বিটিভির নিয়মনীতির লংঘন করে আসছে এ কেন্দ্রর উর্ধতনরা। এতে করে প্রতিবছর সরকারের ১ কোটি টাকার অধিক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে বঞ্চিত শিল্পীদের। এছাড়া অতালিকাভুক্ত শিল্পীরা টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠান নিয়ে থাকেন বলেও শিল্পীদের অভিযোগ।
এদিকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিভিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের  চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হলেন সঙ্গীত শিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক মুন্না ফারুক। দণ্ডবিধি ১৬১/১৬২/১৬৫-কসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে এ ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মনোজ সেনগুপ্ত, ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের একান্ত সহকারী সুকুমার বিশ্বাস, মিউজিক কম্পোজার মো. মোমতাজ আবেদীন এবং ক্যামেরাম্যান আশীষ কুমার শীল (আর্জিতে অভিযুক্তদের পদ–পদবী এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে)।
গত ৭ মে আদালত এক আদেশে মামলার আরজিতে প্রাথমিক সত্যতা থাকলে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী এড. মোহাম্মদ জামশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, মনোজ সেন গুপ্ত, সুকুমার বিশ্বাস, মোহাম্মদ মোমতাজ আবেদীন ও আশীষ কুমার শীলের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ এনে আমরা মামলা দায়ের করেছি। আদালত তাঁর আদেশে, মামলায় প্রাথমিক সত্যতা থাকলে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা বলেছেন দুদককে।
মামলার আরজিতে বলা হয়, ১নং আসামি (মনোজ সেন গুপ্ত) দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ১৯৯৮ সালে বিটিভি থেকে বহিষ্কার হন। তিনি তার দুর্নীতির ডালপালার বিস্তার ঘটিয়ে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের অঢেল অর্থ অপচয় করতঃ বেহাত করে নিজের পকেটে নেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সময় বৃদ্ধি করা হলে তিনি এবং তার সিন্ডিকেটের পোয়াবারো অবস্থার সৃষ্টি হয়। অতালিকাভুক্ত শিল্পীরা টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠান নিয়ে থাকেন। এতে আরো বলা হয়, বিনা পরীক্ষায় কণ্ঠশিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী, উপস্থাপক, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক তালিকাভুক্তকরণে এবং তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে শ্রেণিমান প্রদানে চরম অনিয়ম করেন আসামিগণ, যা বিটিভির নিয়মনীতির লঙ্ঘন। এতে করে প্রতিবছর সরকারের ১ কোটি টাকার অধিক ক্ষতি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া অতালিকাভুক্ত শিল্পীরা টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠান নিয়ে থাকেন। এছাড়া তালিকাভুক্ত শিল্পীদের সাথে অবৈধ উৎকোচ নিয়ে অতালিকাভুক্ত শিল্পীদের দিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান করিয়ে সরকারের কোটি টাকা অপচয় করে আসামিগণ নিজেরা লাভবান হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রে ২০১২ সাল থেকে শিল্পীদের কোনো শ্রেণি উন্নয়নের অনুমতি প্রদান করা হয়নি। অথচ চট্টগ্রাম কেন্দ্রে তাদের শ্রেণি উন্নয়ন করা হলো। এ ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের বিপুল পরিমাণ অপচয় হচ্ছে কিন্তু অনুষ্ঠানের কোনো মানোয়ন্নয়ন হয়নি। এছাড়া নিয়ম বহির্ভূত একই ব্যক্তিকে দিয়ে একই প্রান্তিকে অসংখ্য অনুষ্ঠান ধারণ এবং এতে যোগ্য সাধারণ শিল্পী ও ব্যক্তিরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, এই সকল ব্যক্তিদের নামে কী পরিমাণ চেক ইস্যু হয়েছে তা তদন্ত সাপে বেরিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে একেকজন প্রতিমাসে লাখ টাকা পর্যন্ত চেক উত্তোলন করছেন বলে দাবি করা হয়। এজহারে বলা হয়, নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর ২০০৮ সালে অভিজ্ঞ বিচারকদের দ্বারা তালিকাভুক্ত শিল্পীদের একটি অডিশন নেয়া হয়। উক্ত অডিশনে অকৃতকার্য শিল্পীদের অনেককে এরপর অর্থের বিনিময়ে ১নং আসামি শ্রেণি উন্নয়ন করে নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রদান করছেন। এতে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে। এছাড়া বিটিভি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কালো তালিকাভুক্ত এক শিল্পীকে নিয়মিত সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে অনুষ্ঠান প্রদান করছেন। এতে গত দুই বছরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা একজনের অনুষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে, যার বখরা তুলেছেন আসামিরা। এছাড়া মনোজ সেন গুপ্তকে ২০১৬ সালে প্রোগাম ম্যানেজার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলেও তিনি ভারপ্রাপ্ত জি.এম. হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তার স্বাক্ষরিত নথিতে তিনি জেনারেল ম্যানেজার পদবী ব্যবহার করছেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী।
আরজিতে আরো বলা হয়, অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে টক শো নামক অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং এতে অংশ নেয়া তার (১নং আসামি) পছন্দের লোকদের বিপুল অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া ডিজাইন শাখায় যোগ্যলোক থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেই ওই শাখার তত্ত্বাবধায়ক হয়ে আছেন। এই শাখার নামে মালামাল কেনার কথা বলা হলেও বস্তুতঃ কোনো মালামাল কেনা হয় নি। যার ফলে ২ বছরে ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মামলার আরজিতে বাদী আরো বলেন, টিভি অভ্যর্থনা করে নামে মালামাল কেনায় বিশাল চুরি সহ মো. মোমতাজ আবেদীন (বাদ্যযন্ত্রী) তার অপকর্মের সহযোগী হওয়ায় তাকে দিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রযোজনা, বিলে স্বাক্ষর এবং অনুষ্ঠানসূচি প্রণয়ন সহ সব ধরনের কাজ করিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করছে। তার অপর সহযোগী সুকুমার বিশ্বাস বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া আশীষ কুমার শীল নামে একজন নতুন ক্যামেরাম্যানকে ঐ শাখার কন্ট্রোলার বানিয়ে মতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে আসামিরা সরকারের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও এজহারে উল্লেখ করা হয়। আরজিতে মোটাদাগে মোট ১২টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।