banner

শেষ আপডেট ১৫ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:৩৪  ||   সোমবার, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

উইলিয়াম কেরী স্কুলের পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রীত্ব বাতিল ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ : প্রশাসন নীরব

উইলিয়াম কেরী স্কুলের পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রীত্ব বাতিল ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ : প্রশাসন নীরব

২ মে ২০১৮ | ১৮:৪৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • উইলিয়াম কেরী স্কুলের পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রীত্ব বাতিল ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ : প্রশাসন নীরব

ক্রাইম প্রতিবেদক :  নগরীর স্বনামধন্য একমাত্র আমেরিকান ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্টানের এ্যাডমিনেস্টেটিভ পরিচালক মিস মিগ্যান কার্নসের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণীর ছাত্রী ইভানজেলীন এ্যান্জেল পাড়ৈ, রোল নং ১৭, আইডি নং ০৯০২৯ কে গত ১৯ শে মার্চ সকাল আনুমানিক ৮ টার নাগাদে শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্ছিত ও ছাত্রীত্ব বাতিল করেন। এতে তার পিতা ড. রেভা পলেন পাড়ৈ (পিএইচডি) জানতে চাইলে মিস মিগ্যান কার্নস কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন এবং প্রতিষ্টানের প্যাডে লিখিত নোটিশে ছাত্রীত্ব বাতিলসহ উক্ত অভিভাবককে লাঞ্ছিত করেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ছাত্রী ইভানজেলীন পাড়ৈ গত ২০ শে মার্চ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও ২২শে মার্চ ড. পলেন পাড়ৈ আরেকটি অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগকারী কারী ইভানজেলীন পাড়ৈ দি ক্রাইমকে জানান, মিস মিগ্যান কার্নস তাকে অর্থের জন্য বিভিন্ন ভাবে মানসিক নির্যাতন করেন এবং প্রশাসনের নজরের বাইরে ও সিসিটিভি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাদের উপর নিয়ে গিয়ে তাকে ও আরো অনান্য ছাত্রীদের আধা ঘন্টা রৌদ্রের মধ্যে দৌড়ান। এই শাস্তির কারনে ভাড়াকৃত এই শিক্ষা প্রতিষ্টানের বাড়ীর মালিকের মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তিনি এক সপ্তাহ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সামনে আমার নবম শ্রেণীর পরিক্ষা। এমতাবস্থায় আমি শিক্ষাহীন অবস্থায় ছাত্রীত্ব হারানোর কারনে আমি হতাশ হয়ে পড়ি। গত ২০ মার্চ আমি আমার অভিভাবকের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও দু্র্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আগ্রাবাদ শাখায় অভিযোগ দাখিল করি।  এতে দুদক আমাদের বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করি, বেসরকারী প্রতিষ্টান নিয়ে আমরা কাজ করি না, তবু আমাদের মাসে দু’বার বৈঠক হয়, উক্ত বৈঠকে আমরা এই অভিযোগ উপস্থাপন করবো।’

অন্যদিকে ,আরেক অভিযোগকারী ইভানজেলীন পাড়ৈ এর পিতা ড. রেভা পলেন পাড়ৈ দি ক্রাইমকে বলেন, আমি অনান্য খ্রিস্টীয় পালকের মত সাধারণ একজন পালক। বিগত ২০১৬ সালে আমি দীর্ঘ ১১ বছর দক্ষিণ কোরিয়াতে শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে যায়। শিক্ষাগ্রহণ শেষে চট্টগ্রামে আসলে নগরীর জামালখান এ জি বেথলেহেম চার্চের প্রধান পুরোহিত আলফ্রেড আশিষ অধিকারীর অনুরোধে পুরোহিত হিসেবে যোগদান করি। আমার যোগদানপত্রে যে সম্মানির একটি চুক্তি হলো তার এক-তৃতীয়াংশ ও আমাকে দেয়নি। হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই আমাকে অব্যাহতিপত্র প্রধান করেন এজি চার্চের প্রধান পুরোহিত আলফ্রেড আশিষ অধিকারী। আমার মেয়ে বাংলা ভাষা চর্চা না তাকাতেই আমি খ্রিস্টীয় এই শিক্ষা প্রতিষ্টানে ভর্তি করিয়েছি।  সাধারণত খ্রিষ্টীয় শিক্ষা প্রতিষ্টানে খ্রিষ্টিয়ান শিক্ষার্থী বা খ্রিষ্টিয়ান যাজক, পালক বা পুরোহিতদের সন্তানদের বিশেষ সুবিধা থাকে কিন্তু আমার মেয়েকে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি করিয়েছি পর্যন্ত সুবিধার পরিবর্তে পরিচালকের কাজ থেকে শাস্তি পেয়েছেন। এবং সর্বশেষ তাকে শিক্ষাগ্রহন হতে বঞ্ছিত করেন। তার মুলত কারণ হলো আমি অর্থ দিতে পারিনি। আমার চাকরি হারানোর পর আমি পেশা হিশেবে ধর্মপ্রচারক হিসেবে থাকি। আমি নাসিরাবাদে ছোট একটা রুম নিয়ে খ্রিষ্টীয় ধর্ম প্রচার করি। এতে আমার সামান্যতম আয় দিয়ে পরিবার, বাড়িভাড়া, ছেলেমেয়ের শিক্ষা খরছসহ অনান্য খরছাদি বহন করতে কষ্ট হলে, আমি আমার মেয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্টান উইলিয়াম কেরীর এ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ ডিরেক্টর মিস মিগ্যান কার্নস কে আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বলি এবং আমার মেয়ে যেন পড়তে পারে, তার পড়ার কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় যেন খ্রিষ্ট্রীয় বৃত্তি ব্যবস্থা ও সুবিধাদির জন্য অনুরোধ করলে ও তা তিনি কোন কথা না শুনে, অনুধাবন না করে যা ইচ্ছে তা দ্যুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছিত করেন। আমি উক্ত প্রতিষ্টানে নবম শ্রেণীর পরিশোধকৃত রশিদ নং ৫৯৭২ একাউন্ট নং ০০০৫১০৬০০০১০২৯ তে তারিখঃ ১২/১২/২০১৭তারিখ ৯৯,৮০০ টাকা পরিশোধ করি। এরপর উক্ত প্রতিষ্টান ১,০৩,৯৫৫ টাকা দাবি করেন। পরিশেষে আমি জেলা প্রশাসক বরাবর আইনী সহযোগিতার ২০ ও ২২ তারিখ আমি ও আমার মেয়ে পৃথকভাবে দুটি অভিযোগ দাখিল করি কিন্তু এখন প্রায় ১মাস পার হয়ে গেলেও জেলা প্রশাসক থেকে কোন ধরনের আইনী সহযোগিতা পায়নি বলে জানান তিনি।’

উক্ত অভিযোগ সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন থেকে জানতে চাইলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন,  উইলিয়াম কেরী শিক্ষা প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তা যথারোপ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত সহঃ কমিশনার( শিক্ষা) শাখায় পাটানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কতৃক উক্ত অভিযোগের চট্টগ্রাম সহ: কমিশনার  (শিক্ষা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোশনূর রুবাইয়াৎ এর সাথে  দি ক্রাইম একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে চাইলে, তার ব্যস্ততার কারণে কথা বলা যায়নি। তার গোপনীয় সহকারী সুফিয়া খাতুন  কাছে জানতে চাইলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন,  সহকারী কমিশনার(শিক্ষা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  ১৯শে এপ্রিল ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার জসিম উদ্দীন বরাবর স্বাক্ষর করে নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগের সাধারণত তিন দিনের মধ্যে তদন্ত করা হয় ১ মাস হওয়ার কারণে জানতে চাইলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন,’ আমি এইস্থান থেকে অন্যস্থানে যোগদান করলে,  শিক্ষা শাখার কাজগুলো পড়ে থাকেন। সাধারণত এসব কাজ করার মত কেউ ছিল না। আমি আবার এখানে ৮  এপ্রিল ফিরে আসি। শিক্ষা শাখার কাজ গুলো সাধারণত আমি করি। কাজটি দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে এই ব্যাপারে আমি দুঃখিত। আমি খুব শ্রীঘ্রই ফাইলটির কাজ করে  চট্টগ্রাম মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাটানোর ব্যবস্থা করছি। ফাইলটির স্মারক নং ০৫.৪২.১৫০০.৬০৩.৭০.০০৬.১৮-৪০৭।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার দি ক্রাইমকে বলেন, ‘ উইলিয়াম কেরী শিক্ষা প্রতিষ্টানটি আমেরিকান ক্যারিকুলামে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকেন। এটা বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা পাঠ্যক্রম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে আমরা উপযোক্ত ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কিন্তু এতে যদিও আমার কিছু করার নেই। তবু জেলা প্রশাসক যখন আমার নিকট পাটিয়েছেন আমি তদন্ত করে শ্রীঘ্রই জানাবো। তবে আমরা সাধারণ ইংরেজী মাধ্যম ন্যাশনাল ক্যারিকুলাম শিক্ষা প্রতিষ্টান, এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্টান, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টানের কাজগুলো করে থাকি। অনান্য দেশের শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলো আমার আওতার বাইরে। তা সরকার আমাদের অনুমতি দেয়নি।’
আপনাদের আওতার বাইরে হলে, এইসব শিক্ষা প্রতিষ্টানে কি অনান্য দেশের শিক্ষার্থী পড়তে আসে, বাঙ্গালি কি পড়েনা? এবং শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলো কি বাংলাদেশ শিক্ষানীতির বাইরে? প্রতিষ্টানগুলো কি বাংলাদেশে কর দেয় না? এসব প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা এস মোস্তফা আলম সরকার দি ক্রাইমকে বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্টান যখন আছে, বাঙ্গালীরা তো পড়বেই, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এসব স্কুলগুলোর সংসোধনীর ব্যবস্থা অনুমতি আমাদেরকে দেয়নি। আমরা তো আইনের বাইরে যেতে পারিনা। তবুও আমি নিজ থেকে এই বলতে পারি যে, মিস মিগ্যান কার্নস কাজটি অন্যায় করেছেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্টান দেখাশুনার আইন যদি আমাদের হাতে থাকত তাহলে তার বিরুদ্ধে যথারোপ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতাম। এসব প্রতিষ্টান বাংলাদেশকে কর দেয় কি’না তা কর কমিশন জানবে। জেলা প্রশাসক থেকে তদন্তের জন্য অনুরোধ যখন আসছে, তাহলে শিক্ষা অফিসার বিহীত ব্যবস্থা নিবেন।