banner

শেষ আপডেট ১৬ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:২৪  ||   মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ১ কার্তিক ১৪২৫

চমেক হাসপাতালের বেপরোয়া আয়া-ওয়ার্ডবয়দের কাছে রোগী ও স্বজনেরা জিম্মি

চমেক হাসপাতালের বেপরোয়া আয়া-ওয়ার্ডবয়দের কাছে রোগী ও স্বজনেরা জিম্মি

৯ এপ্রিল ২০১৮ | ১১:৫৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চমেক হাসপাতালের বেপরোয়া আয়া-ওয়ার্ডবয়দের কাছে রোগী ও স্বজনেরা জিম্মি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যিনি একবার সেবা নিয়েছেন, তিনি এবং তার আত্মীয় স্বজনেরা ভালো জানবেন এখানকার আয়া-ওয়ার্ড বয়দের দুর্ব্যবহার কেমন। বিশেষ করে এসব অবৈতনিক কর্মচারীদের হাতে কতটুকু অসহায় রোগী ও স্বজনেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার এসব কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেও কোনো লাগাম ধরতে পারেনি। তাদের দৌরাত্ম্য কোনভাবেই কমানো যাচ্ছে না। বরং দিন দিন বাড়ছে রোগীদের উপর তাদের নানা অত্যাচার।
হাসপাতালে এমন কোনো রোগী বা রোগীর আত্মীয় স্বজন নেই এসব কর্মচারীদের হাতে লাঞ্ছিত হননি। টাকা ছাড়া এরা কিছুই বুঝেনা। টাকা দিলেও অনেক সময় কাজ করে না। বরং রোগীদের তারা নানা ধরণের হয়রানি করে।
এছাড়াও ঔষধ বিক্রির জন্যে দালালদের সাহায্য করা, টাকার বিনিময়ে বেড দেয়া, ওষুধ চুরিসহ ভয়ংকর সব অপকর্মের হোতা এসব কর্মচারীরা।
হাসপাতালে সূত্রে জানা যায়, জনবল সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে এদের নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। তাদের কোনো বেতন দেয়া হয় না। রোগীদের বকশিষের টাকায় তারা চলে। তবে এদের মূল খুঁটি হচ্ছে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি প্রভাবশালী চক্র। যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় এরা।
প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে এসব অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ আছে। প্রতিজন কর্মচারী নিয়োগের বিপরীতে চক্রটি হাতিয়ে নেয় বিপুল পরিমাণ টাকা। এসব চক্রের মূল হোতা হাসপাতালে কয়েকজন কর্মকর্তা। এরমধ্যে একজন ওয়ার্ড মাস্টারও রয়েছেন। এছাড়াও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন কর্মচারী এ চক্রটি পরিচালনা করে।
সুত্রটি জানায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে এসব কর্মচারীরা কাজে যোগ দেয়। এরপরও আবার প্রতি মাসে চক্রটির হাতে তুলে দিতে হয় নির্দিষ্ট চাঁদা। না হয় অজুহাত দেখিয়ে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওয়ার্ড বয় জানান, গাইনী ওয়ার্ডে রোগী বেশী। ওখানে টাকা বেশি ইনকাম হয়। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে যেতে হলে একটি চক্রকে দিতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। এছাড়াও প্রতিমাসের চাঁদা তো আছেই।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, যেহেতু তাদের বেতন দেয়া হয় না। তাই আমরা প্রতি রোগীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায়ের নিয়ম করেছি। কিন্তু এত সব দুর্নীতির ব্যাপারে তারা অবগত নন বলে জানান।