banner

শেষ আপডেট ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮,  ২১:৪৪  ||   বুধবার, ২৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

নগরীর জলাবদ্ধতা : চাক্তাই নয়, দখল-বেদখলে নগরের অনেক খালই বিলীন

নগরীর জলাবদ্ধতা : চাক্তাই নয়, দখল-বেদখলে নগরের অনেক খালই বিলীন

৩১ মার্চ ২০১৮ | ১৩:১৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নগরীর জলাবদ্ধতা : চাক্তাই নয়, দখল-বেদখলে নগরের অনেক খালই বিলীন

চাক্তাই খালের প্রশস্ততা গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ ফুট থাকলেও অনেক এলাকায় এখন তা পাঁচ থেকে সাত ফুটে নেমে এসেছে। দুই পাড়ের বাকি অংশ কাদামাটি আর আবর্জনায় এখন হাঁটাপথ হয়ে গেছে। রবিবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে চাক্তাই খালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। নগরীর ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়াডের মরিয়ম বিবি খালের অবস্থা আরো শোচনীয়। এই খাল দিয়ে একসময় খাতুনগঞ্জের সমস্ত মালামাল আনা নেওয়া হতো। কিন্তু কালের পরিবতনে এই খাল ক্রমান্বয়ে দখল ওদূষনে ভরাট হয়ে গেছে। বছর দুয়েক আগে এই খালের কিছু অংশের খনন করা হলেও তা এখন পুনরায় ভরাট হয়ে পড়েছে। এছাড়াও এই খাল দুই দিকে দখল করে ঘর ও দোকান তৈরী করায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হয় এই এলেকার জনগনসহ চাক্তাই- খাতুনগঞ্জের মানুষ।

এছাড়াও নগরীর ৩৬টি খালের বেশির ভাগেরই এখন করুণ দশা। স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের অবস্থা নেই বেশির ভাগ খালে। নালা-নর্দমার পানি খালে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরের অনেক এলাকার বাসিন্দাকে।

আসন্ন বর্ষায় বিভিন্ন কারণে নগরীর জলাবদ্ধতা আরো ভয়াবহ হতে পারে। নির্বাচনের বছরেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর! আর মাত্র দুই মাস পরই বর্ষা মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু বর্ষার জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির জন্য আগাম প্রস্তুতির কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান সরকার এগিয়ে এসেছে। সে লক্ষ্যে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প গত ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সফরকালে উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু এখনো সেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি।

এদিকে ওই মেগাপ্রকল্পের কারণে গত সপ্তাহ থেকে খাল খনন-সংস্কারকাজ পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রতিবছর বর্ষার আগে, এমনকি বর্ষার সময়ও বড় বড় খালের সংস্কারকাজ করে আসছিল চসিক। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মেগাপ্রকল্প সামনে রেখে হঠাৎই চসিক খালের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

‘চাক্তাই খাল ভরাট হতে হতে এখন তো খালের তলদেশ দিয়েও মানুষ হাঁটে। নগরের প্রধান খালটির অনেকাংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা থেকে কেউ মুক্তি পাচ্ছে না।  প্রতি বছর এই এলেকার ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে। গত ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারকাজ শুরু হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু চাক্তাই নয়, দখল-বেদখলে নগরের অনেক খালই বিলীন হওয়ার পথে। এবারও নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে কতটুকু রেহাই পাবে তা বলা যাচ্ছে না।’