banner

শেষ আপডেট ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮,  ২১:৪৪  ||   বুধবার, ২৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

আস্থা ও তারল্য সংকটে ‍বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার

আস্থা ও তারল্য সংকটে ‍বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১৯:৪৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আস্থা ও তারল্য সংকটে ‍বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার

গত সপ্তাহজুড়ে (১৮-২৩ ফেব্রুয়ারি) দরপতনের বৃত্তে ছিলো পুঁজিবাজার। এতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছেন ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগের সপ্তাহের দুই কার্যদিবসও দরপতন হয়েছিলো। চলমান এ দরপতনে চরমভাবে আস্থা ও তারল্য সংকটে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতার পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো যাচ্ছে না। বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে রয়েছে তারল্য সংকট। এ সমস্যার পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়ে চীন ও ভারতের টানাটানিকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে।

‘এখন বিনিয়োগ করলে লোকসান হবে’ এমন ভয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাতগুটিয়ে বসে আছেন। ফলে বাজারে নতুন করে তারল্য সংকট প্রবল আকারে দেখা দিয়েছে। সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে দরপতনের কারণ অনুসন্ধানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি) দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে গত সপ্তাহে চিঠি দিয়েছে। তবে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কোনো জবাব মেলেনি।

বাজারের সার্বিক বিষয়ে ডিএসইর সদস্য এনকোর সিকিউরিটিজের সিইও সাইফুল ওয়াদুদ বাংলানিউজকে বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন ‘গুমট’। আর্থিকখাতে চলছে চরম অনিয়ম। এই সময়ে নতুন করে যারা বিনিয়োগ করছেন তার‍াই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে কেউ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন না।

আশা ছিলো নির্বাচনের বছর বাজার ভালো থাকবে। কিন্তু হয়েছে তার উল্টো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসবের ওপর নতুন করে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিরেশিও) কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই’র স্ট্রাটেজিক পার্টনার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। এসবের ফলে বাজারে দরপতন অব্যহত রয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের বাজার পরিস্থিতি: আলোচিত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৮ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিলো ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮ টাকা। যা শতাংশের হিসেবে আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। আর দৈনিক লেনদেন ৫১৫ কোটি টাকা থেকে নেমে এসেছে ৩৭৪ কোটি ৬২ লাখ টাকায়।

লেনদেন হওয়া কোম্প‍ানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ২৭৭টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। এর আগের সপ্তাহের লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছিলো ২৪১টির, কমেছিলো ৭২টির আর অপরিবর্তিত ছিলো ২৫ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

তিন সূচকে পথ চলা ডিএসইর প্রধান সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৪৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএস-৩০ সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭০ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৯ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এসবের ফলে ডিএসইতে বাজার মূলধন ৮ হাজার ২১২ কোটি ৮২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৯ টাকা কমে ৪ লাখ ৯ হাজার ৫৭১ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে অপর বাজার সিএসইতে পুঁজি হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১২৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিলো ১৩১ কোটি টাকা। সিএসইর প্রধান সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৭৩ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪১টির, কমেছে ১১৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪ কোম্পানির শেয়ারের দাম।