banner

শেষ আপডেট ২১ অগাস্ট ২০১৮,  ১৩:০৬  ||   বুধবার, ২২ই আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৭ ভাদ্র ১৪২৫

প্রশ্নফাঁস রোধ করা যায়নি:প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে

প্রশ্নফাঁস রোধ করা যায়নি:প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে

৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১০:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রশ্নফাঁস রোধ করা যায়নি:প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সরকারের নেওয়া এসব সিদ্ধান্তের একটি হচ্ছে, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।
অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে, গত শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ, সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা বাতিল, শুধুু কেন্দ্রসচিব একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন ইত্যাদি। প্রশ্নফাঁস রোধ করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোথাও প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এমনকি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও যদি প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সে পরীক্ষাও বাতিল হবে। অর্থাৎ প্রশ্নফাঁস রোধ করতে সরকার এবার বদ্ধপরিকর। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা ঢুকছে। কিন্তু তাতে প্রশ্নফাঁস রোধ করা যায়নি। চলতি এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্নফাঁসে ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্চুয়াল মিডিয়া।
ফেসবুকে প্রশ্নফাঁসের বিজ্ঞাপনই প্রচার হচ্ছে যেন। বিভিন্ন আইডি থেকে প্রশ্ন আছে জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে মোবাইল নম্বরও। ফেসবুকে পাওয়া এসব প্রশ্নের সঙ্গে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ অংশের প্রশ্নের হুবহু মিলও পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব পরীক্ষা বাতিলের কোনো ঘোষণা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আসেনি। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট আগে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে সমাধানসহ প্রশ্ন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে ‘বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন আছে’ বলে জানানো হয়েছে। নানা উপায়ে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে।
সরকার এত উদ্যোগ নেওয়ার পরও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তাহলে কি ধরেই নিতে হবে যে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাছে সরকার নিতান্তই অসহায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করেছে বলে খবরে প্রকাশ। একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করার কথাও বলা হচ্ছে, যে কমিটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করে দেখবে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় একেবারে গোড়ায় হাত না দিলে রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। যে চক্রটি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের খুুঁজে বের করতে না পারলে প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে না। ছাপাখানা থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলে বিতরণের আগে পর্যন্ত কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা না হলে সরকারকে শুধু বিব্রতই হতে হবে। আমরা আশা করব, প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার অবশ্যই একটি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।