banner

শেষ আপডেট ১২ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২০:০৯  ||   বৃহষ্পতিবার, ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘গুজবে’ অস্থির পুঁজিবাজার

‘গুজবে’ অস্থির পুঁজিবাজার

১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১০:১৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ‘গুজবে’ অস্থির পুঁজিবাজার

মুদ্রানীতির ধুয়া তুলে পুঁজিবাজারকে টেনে নিচে নামাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। মিথ্যা তথ্য আর গুজবে বিনিয়োগকারীদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি করছে। আর লোকসান কিংবা স্বল্প মুনাফায় ‘কম দামে’ শেয়ার বিক্রি করে ‘নিরাপদে’ সরছে বিনিয়োগকারীরা। ক্রমাগত শেয়ার বিক্রিতে বাজারে পতন ঘটছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে ও পরে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

একটি সূত্র বলছে, নির্বাচনী বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বাজারে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আর নানামুখী গুজবের আশঙ্কা থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে। বাজারের পতন নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে। এতে আশঙ্কা থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে।

গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন ঘটেছে। প্রধান সূচক কমেছে ১.৪৪ শতাংশ বা ৮৮ পয়েন্ট। লেনদেনও তলানিতে নেমেছে। শেয়ার হাতবদলের সংখ্যা কমার সঙ্গে বাজার মূলধনও ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। গত এক মাসে ডিএসই থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পুঁজি বেরিয়ে গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজার প্রভাবিত হয় এমন কোনো বিষয়ই নেই মুদ্রানীতিতে। ব্যাংকের ঋণ-আমানতের হার (এডিআর) কমানোতে পুঁজিবাজার প্রভাবিত হওয়ারও কিছু নেই। বরং বাজার নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। তবে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বাজার নিয়ে খেলায় মেতেছে। মিথ্যা তথ্য আর গুজব ছড়িয়ে বাজারকে প্রভাবিত করছে। নির্বাচনের বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার তথ্য ছড়িয়ে বাজারকে টেনে নিচে নামাচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়িয়ে সতর্কমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৬.৮ শতাংশের প্রক্ষেপণ ধরা হয়েছে। বেপরোয়া ঋণের লাগাম টানতে ব্যাংকের ঋণ-আমানত (এডিআর) কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার জারি না হলেও এ হার কমানো হচ্ছে এমন তথ্য প্রকাশিত হলে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে।

গত দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেনদেন ও সূচকের হ্রাস-বৃদ্ধিতেই পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে। মূল্যসূচকে বড় হ্রাস-বৃদ্ধি থাকলেও লেনদেন তিন শ-চার শ কোটি টাকার ঘরেই রয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসে ডিএসইতে সূচক কমেছে ২১৪ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন ডিএসইতে সূচক ছিল ছয় হাজার ২৫৪ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ২৩ হাজার ৪২৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ গতকাল বুধবার এই সূচক দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৯ পয়েন্ট। আর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৪ হাজার ৯১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বাজার মূলধন কমেছে।

সূত্র জানায়, মুদ্রানীতির দোহাই দিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পুঁজিবাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। আর জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশে বিনিয়োগে মন্দাভাব আর ব্যাংকের টাকা বাইরে চলে যাওয়ার কথা ছড়ানো হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগকারীরা কম দামে কিংবা লোকসানেও শেয়ার বিক্রি করছে। শেয়ারের দাম কমে গেলে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ‘কম দামে’ শেয়ার কিনে ফায়দা লুটতে কারসাজি করছে।

ডিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে বাজারকে ফেলে দিচ্ছে। এখন বাজার পড়ার কোনো কারণ নেই। তবে মুদ্রানীতি ও ব্যাংকের এডিআর র‌্যাশিওকে ইস্যু বানিয়ে বাজারকে নিচে নামাচ্ছে। যদিও এই দুটি বিষয়ে পুঁজিবাজারে কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক উসমান ইমাম বলেন, ‘মুদ্রানীতিতে টাকাপ্রবাহ ও মূল্যস্ফীতি এবং প্রবৃদ্ধি নিয়ে নির্দেশনা থাকে। এই নীতির কারণে পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে বাজারে গুজব ও মিথ্যা তথ্য বেশি ছাড়ানো হচ্ছে, যার দরুণ বাজার প্রভাবিত হচ্ছে।’

ডিএসইর অভিনন্দন বার্তা : বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারকে করপোরেট গ্রাহক ও প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে আরো গ্রহণযোগ্য ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে বলে জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। যার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিনন্দন জানিয়েছে ডিএসই। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংকের ওপর অতি নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহে উৎসাহ ও সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্যতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গভীরতাও বৃদ্ধি পাবে।