banner

শেষ আপডেট ১১ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২২:৪৫  ||   বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

মহর্ষি মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী

মহর্ষি মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী

২০ জানুয়ারী ২০১৮ | ১৭:১৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • মহর্ষি মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী

 

নাসিরুদ্দিন চৌধুরী : মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামবাদী ঊনবিংশ শতাব্দির এক সিংহপুরুষ। এমনি অনেক সিংহপুরুষের আবির্ভাবে ধন্য হয়েছিলো বাঙালির উনিশ শতক। যেমন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, সুরেন্দ্র নাথ ব্যানার্জি, অরবিন্দ ঘোষ, দেশবন্ধু সি আর দাশ, দীনেশ চন্দ্র সেন, বিপিন পাল, নেতাজী সুভাষ বসু, নবীন চন্দ্রসেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেন, সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, বিনয় কুমার সরকার,, সত্যজিৎ রায়, দেশপ্রিয় জে এম সেনগুপ্ত, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাস্টারদা সূর্য সেন, শেখ-এ-চাটগ্রাম কাজেম আলী মাস্টার, এমনি আরো অনেকে; কত নাম করা যায়। যাদেরকে আমরা সিংহপুরুষ বলছি, তারা বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী এই গোত্রের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সাহিত্য, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, স্বাধীনতা সংগ্রাম, বিপ্লববাদ, শিক্ষা, ধর্মপ্রচার, সমাজ সংস্কার ইত্যাদি সহ ঊনিশ ও বিশ শতকের প্রমমার্ধে জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রব্যাপী সংগ্রাম, সংকল্প ও সাধনার যদি খোঁজ নেয়া যায়, তাহলে দেখা যাবে অগ্রে অগ্রে শ্মশ্রু গোফমন্ডিত এক প্রাচীন ঋষি হেঁটে যাচ্ছেন অকম্পিত পদবিক্ষেপে অবিচল লক্ষ্যপানে। এই ঋষি আর কেউ নন, চট্টগ্রাম জেলার সাবেক পটিয়া অধুনা চন্দনাইশ থানাভুক্ত আড়ালিয়া চরের মতি পন্ডিতের পুত্র মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। উল্লিখিত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি বিচরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতিভার কর্ষণে উৎপন্ন মূল্যবান ফসল বাঙালি সমাজ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির গোলায় চিরকালের সম্পদ হিসেবে জমা হয়েছে।
মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর পূর্ব পুরুষগণ সুদূর আরব হতে ধর্মপ্রচারের নিমিত্তে ভারতবর্ষের গৌড়ে এসে বসতি স্থাপন করেন। বাদশাহ নছরত শাহের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় তিনি সৈয়দ ফতে শাহকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদে নিয়ে আসেন। ফতে শাহ ছিলেন একজন সুপ-িত। তাঁর বিদ্যাবুদ্ধি ও বিচক্ষণতায় সন্তুষ্ট হয়ে বাদশাহ নছরত শাহ জ্ঞানের আলোকদানের জন্য ফতে শাহকে আড়ালিয়া, চর সেবন্দী (বর্তমানে চরতি, বাইনজুড়ি ইত্যাদি) সহ কয়েকটি মৌজা ও মৌজার অংশে বিশেষ জায়গীর দেন। কাছাড়ী ছিল পুকুরিয়া পাহাড়ে। মওলানা ইসলামাবাদীর পিতা মতি উল্লাহ, মাতা রহিমা বিবি। পিতামহ খান মোহাম্মদ, তৎপিতা খোসান মোহাম্মদ, তৎপিতা আমির মোহাম্মদ, তৎপিতা আদিল মোহাম্মদ ও তৎপিতা ফতে শাহ্।
ফতে শাহের বংশধর মতি উল্লাহ সাহেবের একমাত্র পুত্র সন্তান মরহুম মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। ইসলামাবাদী মৃত্যুকালে তিনি পুত্র, এক কন্যা ও বিধবা স্ত্রী রেখে যান। স্ত্রী আফলাতুন্নেছা সাবেক নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তি সৈয়দ আহাদ আলী খোন্দকারের কন্যা। তিনি মওলানা ইসলামাবাদীর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্নভাবে তাঁকে সহযোগিতা করেন। প্রথম পুত্র শামসুজ্জামান ইসলামাবাদী তাঁর জীবদ্দশায় মারা যায়। তৎপুত্র সুফী আহমদ আজাদ ইসলামাবাদী ১৯৫৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৩য় পুত্র শাহজাহান ইসলামাবাদী একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ গঠন করেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চীফ একাউন্টস্ অফিসার হিসাবে তিনি অবসর গ্রহণ করেন; কনিষ্ঠ পুত্র বিএ আজাদ ইসলামাবাদী সাংবাদিকতা কর লোকান্তরিত হন। কন্যা বদরুন্নিছা বোয়ালখালী উপজেলার বিশিষ্ট পরিবারের সন্তান ডা. আবদুল আজিস (অব. ক্যাপ্টেন) এর স্ত্রী।
মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জন্ম ১৮৭৫ সালে। ১৮৯৫-তে হুগলি মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে জাময়াত-এ-উলা পাস। অতঃপর রংপুর মুন্সীপাড়া জুনিয়র মাদ্রাসায় শিক্ষকতায় যোগদান। ১৮৯৮-এ কুমেদপুর (রংপুর) মাদ্রাসার হেড মৌলবী নিযুক্ত। ১৯০১-এ সীতাকু- (চট্টগ্রাম) মাদ্রাসায় যোগদান। ‘খতম’, জিয়ারৎ’, ‘মৌলুদখানি’ ইত্যাদি বিষয়ক মোল্লাগিরি কাজের প্রতি আস্থা না থাকায় মাতৃভাষা বাংলা চর্চায় আত্মনিয়োগ। রাজশাহীর মীর্জা ইউসুফ আলীর (সৌভাগ্য স্পর্শ মনি’র গ্রন্থকার) সাহায্য ও সহযোগিতায় ‘সুলতান’ (১৯০৪) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পদনা। বঙ্গভঙ্গ রহিত আন্দোলনের সমর্থনে এ পত্রিকায় বহু প্রবন্ধ ও মন্তব্যাদি প্রকাশ। ১৯০৬-এ কংগ্রেসে যোগদান। এ দলের অন্যতম প্রধান সভ্য হিসেবে বঙ্গ-ভঙ্গ আন্দোলন (১৯০৫-১৯১১), খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-১৯২২), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০) ও ভারত-ছাড় আন্দোলন (১৯৪২)-এ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন। আইন অমান্য আন্দোলনে কারা নির্যাতন ভোগ।
বহুদিন মাসিক ‘আল-এসলাম’ (১৯১৫) পত্রিকা সম্পাদনা। ইরানি ভাষায় প্রকাশিত ‘হাবলুল মতিন’ (১৯১২) নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা। ১৯২৩-এ নবপর্যায়ে সাপ্তাহিক ‘সুলতান’ প্রকাশ করে সম্পাদনা। দৈনিক ‘সুলতান’ (১৯২৮)-এর প্রধান পরিচালক। অবিভক্ত ভারতে জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের বাংলা শাখার প্রতিষ্ঠাতাÑসেক্রেটারি। ত্রিশের দশকে বঙ্গীয় কৃষক-প্রজা দলে যোগদান। ১৯৩৭-এর নির্বাচনে চট্টগ্রামে দক্ষিণ (মধ্য) নির্বাচনী এলাকা থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অসারতা প্রতিপন্ন করে আনন্দবাজার পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রবন্ধ রচনা (১৯৪২-১৯৪৩)। আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। বিপ্লবী কর্মকা-ে যুক্ত থাকার দায়ে ১৯৪৪-এর ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামে গ্রেফতার। লাহোর সেন্ট্রাল জেলে আটক (১৯৪৪-১৯৪৫)। সমাজসেবক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন। আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাংলা, ইসলাম মিশন, খাদেমুল ইসলাম সমিতি, চট্টগ্রাম কদম মোবারক এতিমখানা, ইসলামাবাদ (চট্টগ্রাম) জাতীয় বিদ্যালয়, আড়ালিয়া শামসুজ্জামান বিদ্যালয় ইত্যাদি শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি (১৯১১) প্রতিষ্ঠারও অন্যতম উদ্যোক্তা। ইতিহাসবিষয়ক প্রবন্ধ রচনা করে সুনাম অর্জন। ভারতে মুসলমান সভ্যতা, নিজামুদ্দীন আউলিয়া, তুরস্কের সুলতান, ভারতে ইসলাম প্রচার, মুসলমানের অভ্যুত্থান, সমাজ সংস্কার, খগোল শাস্ত্রে মুসলমান, কনস্টানটিনোপোল, আওরঙ্গজেব, মোসলেম বীরঙ্গনা, কোরানে স্বাধীনতার বাণী, ইসলামের উপদেশ, ইসলামের পুণ্যকথা ইত্যাদি প্রবন্ধে মুসলিম জাগরণের বাণী উচ্চারিত। সুবক্তা হিসেবেও খ্যাত। চট্টগ্রাম জেলার অপর নাম ইসলামাবাদ অনুসারে ইসলামাবাদী উপাধি লাভ। ২৪ অক্টোবর ১৯৫০ সালে চন্দনাইশের বাইনজুরী গ্রামে পরলোকগমন করেন।
মওলানা সাহেবের জীবনে কর্মযোগ ও ভাবযোগের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিলো। তবে কর্মযোগই তাঁর জীবনে হয়ে দেখা দিয়েছিলো। সারা জীবন শুধু কর্মের পেছনে পেছনে ঘুরেছেন। কর্মকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছেন। সেজন্য তাঁকে “কর্মবীর” আখ্যায়িত করলেনই বোধ করি তাঁর প্রতি সুচিবার করা হয়। কিন্তু তিনি ছিলেন প্রচার বিমুখ। তাঁর চরিত্রের সুন্দর মূল্যায়ন করেছেন প্রবাদতুল্য সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ আবদুর রহমান। তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ “যতটুকু মনে পড়ে”Ñতে তিনি লিখেছেনÑ
১৯১৮ ইংরেজির ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রামে তিনদিনব্যাপী বঙ্গীয় মুসলিম রাজনৈতিক, ধর্মনৈতিক ও সাহিত্যিক সম্মিলনের অধিবেশন হয়। সে উপলক্ষে বিখ্যাত লালদিঘির মাঠে বিরাট সভাম-প তৈরি হয়। চট্টগ্রামের মুসলমানদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া জাগে।….
আবদুর রহমান : যতটুকু মনে পড়ে (রহমানসন্স পাব্লিকেশান্স, চট্টগ্রাম) নভেম্বর-১৯৭২, পৃ. ১১৬
এ অধিবেশনে মূল প্রেরণার উৎস ছিলেন মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী সাহেব। ১৯১৭ ইংরেজিতে যখন আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি তখন পটিয়ার মরহুম মওলানা আবদুস ছোবহান এবং আরও কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের প্রচার কার্য্য চালানো ও মৌলভী সাহেবের স্কুলের জন্য কিছু চাঁদা আদায়ের আশায় সফর বের হলেন। সঙ্গে আমিও ছিলাম। তাঁর বাড়িতে আমরা দু’রাত থাকি। অনাড়ম্বর, সহজ সরল, জীবনযাত্রা ও তাঁর আদর-আপ্যায়ন আমাদিগকে মুগ্ধ করেছিল। যদিও পূর্ব হতে খাদেমুল ইসলাম সোসাইটির ব্যাপার তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, তবুও তাঁকে এ একান্ত ঘরোয়া পরিবেশে পর্যবেক্ষণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধায় মন ভরে গেল। তাঁর শেষ জীবনে যদিও আমার সঙ্গে তার মতের মিল ছিলনা তথাপি আমি সময় পেলে তাঁর কাছে যেতাম এবং তিনিও আমাকে আদরের সাথে গ্রহণ করতেন। এ অধিবেশনের পূর্ব্বে তার সুখ্যাতি যদিও লোকমুখে ও পত্র-পত্রিকায় শুনেছি ও পড়েছি তবুও এ শীর্ণকায়, সুদীর্ঘ উচ্চনাসা, গৌরবর্ণ এক মৌলভী যে এত প্রাণশক্তি ও এত প্রকার জ্ঞানের অধিকারী একথা কিছুতেই বিশ্বাস হত না। এ অধিবেশনে সর্ব্বত্রই তাঁর উপস্থিতি এবং সকল কাজেই তাঁর সক্রিয় অংশ গ্রহণে এমন তৎপরতা ও কর্ম-ব্যস্ততার প্রমাণ পেয়ে আমরা অবাক হয়ে গেলাম।
প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুর রহমান। কি সুন্দর পুরুষ! কি গঠন ! কি আকৃতি ! তাঁর ইংরেজি উচ্চারণ শুনে আমরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম। পাশে বসেছিলেন তাঁর ছোট ভাই মরহুম স্যার এ এফ রহমান। তিনি কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইতিহাসে অনার্স পাস করে তখন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক হয়েছিলেন। এ সময়ে ছুটি উপলক্ষে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। তারা জলপাইগুড়ি জেলার চা বাগানের মালিক এবং খুব পয়সাওয়ালা লোক। সাহেব সুবাদের সাথে তাদের দহরম মরহুম। তাকে তার বড় ভাইয়ের পাশে চাঁদের কাছে তারার মত দেখাচ্ছিল। অথচ এ এফ রহমান ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে স্যার জে সি ঘোষ কর্তৃক “চারম্ অফ্ রমনা” অর্থাৎ রমনার মায়াবী বলে অভিহিত হয়েছিলেন। সে কথা পরে হবে। তাঁরা দু’ভাই বিভাগীয় কমিশনার মিস্টার কে সি দের অতিথি হলেন। কলকাতার অ্যাডভোকেট মরহুম ওয়াহেদ হোসেন সাহেব এ অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অংশ নেন। যখনি কোন প্রস্তাব উপলক্ষে বাক্বিতর্কের ঝড় উঠত, সমর্থকের অভাব হত, তখনি মৌলানা ইসলামাবাদী সাহেবের ডাক পড়ত। সঙ্গে সঙ্গেই মৌলানা সাহেব মঞ্চে উঠে এমন সরল ও সুন্দরভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতেন যে তাতে বিরোধের আর কোন অবকাশ থাকতনা। তিনদিনব্যাপী সকল অধিবেশনে তাঁকে যখন তখন কোনরূপ প্রস্তুতি ছাড়া এরূপ মনোজ্ঞ বক্তৃতা করতে শুনেছি। শেষের দিন মরহুম ওয়াহেদ হোসেন বল্লেন, “এ যে আমরা তিনদিনব্যাপী জাতীয়, সামাজিক, সাহিত্যিক এবং রাজনৈতিক সমস্যা সমূহের নানাদিক থেকে এমন সম্প্রতি ও আনন্দের পরিবেশে আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ পেয়েছি সেটা কার কল্যাণে সম্ভব হয়েছে আপনারা জানেন কি? ঐ যে অদূরে মঞ্চের উপরে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সতরঞ্জিতে বসে আছেন সে নিরহংকার, নিঃস্বার্থ মহাপ-িত মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী সাহেবই এর সমস্ত কৃতিত্বের অধিকারী।” তখন হতে তাঁর প্রতি আমার ভক্তি অনুরক্তি বেড়ে যায়।”
প্রাগুক্ত: পৃ. ১১৭, ১১৮
কদম মোবারক এতিমখানা তাঁর জীবনে শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। [তিনি যে ভাবযোগীও ছিলেন, দেয়াং-এর পাহাড়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তারই প্রমাণ বহন করে।
মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবন কিছুটা প্রকাশিত, অনেকটা অপ্রকাশিত। তাঁর জীবনের অন্ধকার প্রদেশে অনুসন্ধানী গবেষকের দৃষ্টি নিপতিত হলে দেখা যাবে। কী অমূল্য মনিমুক্ত সেখানে লুকিয়ে আছে।
বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক এমরান চৌধুরীর রচিত গ্রন্থ ‘যুগের প্রতীক মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’Ñএ লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক প্রয়াস হিসেবে বিবেচনার দাবি রাখে। মওলানার জীবনে মহাসগারের বিশালতা ও অতলান্ত গভীর, মহাকাব্যের ন্যায় বিপুল বিস্তার, সেখানে ডুব সাঁতার দিয়ে দিয়ে এমরান চৌধুরী তাঁর ক্ষীণতনু গ্রন্থের অনতিবিস্তৃত পরিসরে মওলানার জীবন পরিমাপের অসাধ্য চেষ্টা চালিয়েছেন, তাতেও বা পাঠকের প্রাপ্তি কম কিসে।
আমি গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করি। লেখকঃ প্রবীন সাংবাদিক