banner

শেষ আপডেট ২৬ অগাস্ট ২০১৯,  ১০:৪৮  ||   সোমবার, ২৬ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

দুই বছরে সরকারের সাফল্যের পাল্লাই ভারী

দুই বছরে সরকারের সাফল্যের পাল্লাই ভারী

১৬ জানুয়ারী ২০১৬ | ১৭:৫৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • দুই বছরে সরকারের সাফল্যের পাল্লাই ভারী

আগের মেয়াদের ধারাবাহিকতায় গত দুই বছরেও সরকার অর্থনীতি, যোগাযোগ, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সফল হয়েছে। বিশেষ করে চরম সহিংসতাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনে স্থিতিশীল রাখা ছিল বড় সাফল্য। দলীয়ভাবে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠান, নিজ অর্থে পদ্মা সেতু প্রকল্প শুরুসহ অনেক কাজ করে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের আস্থাভাজন হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন কমেনি। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ইমেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

দুই বছরে সরকারের সাফল্য অনেক। তবে ব্যর্থতাও কম নেই। দেশে এক-তৃতীয়াংশ তরুণ শিক্ষিত বেকার রয়েছে।—ইলিয়াস সুমন, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।

আন্দোলনের কারণে প্রথম বছর উন্নয়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। এর জন্য বিএনপি দায়ী। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভালো কাজ হচ্ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো। তবে সরকারি দলে জামায়াতের লোকজনকে নেওয়া উচিত হচ্ছে না। প্রশাসনে দুর্নীতি লাগামহীন। সরকারি দলের লোকজনও নানা অনিয়মে বেপরোয়া।  ভোজ্য তেলের দাম কমেছে দেখছি। অন্যান্য দ্রব্যের দামও কমাতে হবে।—নাদিম খান, ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

দুই বছরে ব্যর্থতার চেয়ে সফলতাই বেশি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আছে। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার যথেষ্ট আন্তরিকতার প্রমাণ দিচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর উদ্যোগটি যুগান্তকারী, দুঃসাহসী। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার উন্নয়নে সরকারের সাফল্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও নজর কেড়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কাজে বড় সহায়ক হয়েছে।

–জাহাঙ্গীর কবির পলাশ, শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

দুই বছর পূর্তির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সরকারের নানামুখী সাফল্য তুলে ধরেছেন। আমি এর সঙ্গে একমত। বর্তমান সরকার দেশের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে অরাজকতা সম্ভবত অনিবার্য ছিল। সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ারও কৃতিত্ব দাবি করতে পারে সরকার। তবে দুর্বলতাও কিছু আছে। ছাত্রলীগের বেপরোয়া আচরণ তার অন্যতম।–এম জি মোস্তফা কামাল অপূর্ব, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের দক্ষতা আশাব্যঞ্জক। অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রগতিও সন্তোষজনক। শিক্ষায় অগ্রগতি হলেও কারিগরি শিক্ষায় নতুন করে তেমন কিছু হয়নি। সন্ত্রাস দমনে সাফল্য আছে। তবে সন্ত্রাসের মূল রয়ে গেছে। উপড়ানো যায়নি। সরকারি দলের মাঠকর্মীদের কারণে নিরীহ অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন লক্ষণীয়। কিন্তু যাত্রীবান্ধব রেল যোগাযোগের উন্নতি হতাশাব্যঞ্জক। বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নকাজে দেশ ভালো এগিয়েছে। তবে প্রতিবেশী একটি দেশে আমাদের টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের উদ্যোগে কোনো সাফল্য নেই। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন আরো দ্রুত করা হবে এই প্রত্যাশা ছিল। সমুদ্রসম্পদ আহরণেও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।–হরেন্দ্র কুমার নাথ,পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এগিয়ে নেওয়া, পদ্মা সেতু নির্মাণ উদ্বোধন, ডাবল রেললাইন ও পাতাল রেলে অগ্রগতি, ফ্লাইওভার নির্মাণ, বিনা মূল্যে কোটি কোটি বই বিতরণ—এসবই উন্নয়নের রোল মডেল করেছে বাংলাদেশকে।–আজহারুল ইসলাম সরকার, রায়পুরা, নরসিংদী।

দুই বছর সরকার ভালোই সফল হয়েছে দেশ পরিচালনায়। বাকি সময়টায়ও যেন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।–মোকাদ্দেস হুসাইন, গ্রামপাঙ্গাসী, সিরাজগঞ্জ।

দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ব্যাপকভাবে উন্নতি ও সহনীয় পর্যায়ে আছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম চার লেনের রাস্তা চালু, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, দ্রব্যমূল্য সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আছে। সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাইরে কিছু কিছু ব্যর্থতাও আছে।–মোহাম্মদ উল্যা, ম্যানেজার, কুরীপাড়া, বেগমগঞ্জ।

দেশি-বিদেশি শত বাধার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে দেশ এখন স্বাভাবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত ছিল। সরকারের পদ্মা সেতু প্রকল্প দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব দিকে ব্যাপক অর্জন ঘটাবে। পৌরসভা নির্বাচন সফলভাবে শেষ করা অন্যতম অর্জন। সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে দেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর অপতত্পরতা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে উন্নয়নের এক রোল মডেল। তা সম্ভব হয়েছে সরকারের দক্ষতার কারণে। সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন অর্থনৈতিক খাতকে শক্তিশালী ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি করা। আরেকটি সফলতা বিদ্যুত্ব্যবস্থার উন্নয়ন।

–ইয়াকুব আল মাহমুদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।

মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ঐতিহাসিক ও নেতৃত্বদানকারী দল দুই বছরে দেশকে সব দিক থেকে সাফল্যমণ্ডিত করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমাদের পরম পাওয়া। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি আরো একবার তার জাতীয় ঐক্য ও মনোবল প্রমাণ করেছে।

–ফারুক আহমেদ, বাগমারা, রাজশাহী।

দুই বছরে সরকারের সাফল্য প্রশংসনীয়। বাকি তিন বছরও এই সফলতার ধারায় কাটুক। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলব, আপনারা দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বেরোতে পারছেন না। আপনাদের সততা নিশ্চিত করা গেলে সরকারের সাফল্য তথা দেশের উন্নয়ন শতভাগ নিশ্চিত করা যেত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, প্রশাসনে দুর্নীতি দেশের বড় সমস্যা হয়ে আছে। এদিকে নজর দিন।–শিবুপ্রসাদ মজুমদার, লেকসার্কাস, কলাগাবান, ঢাকা।

বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। অথচ অনেকেই মনে করত কোনো সরকারের পক্ষেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি হ্রাস পাওয়ায় বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশে টাকা পাঠানোর আগ্রহ বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করে ২৭ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি বাজেটের পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। গত দুই বছরে সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় কয়েকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, কর্মঠ ও দক্ষ মন্ত্রী থাকায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনেক স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন।–বিপ্লব, ফরিদপুর।

সফলতা, ব্যর্থতা দুটিই আছে সরকারের এই দুই বছরে। সফলতার দাবিদার সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। আর ব্যর্থতা কিছু মন্ত্রী-এমপি-রাজনীতিবিদের। প্রধানমন্ত্রী একে একে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। বছরের প্রথম দিন শিশুদের হাতে বই বিতরণ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বিতরণ নানা খাতে সরকারের অবদান অনেক। তবে টানা সাত বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও এমপি, মন্ত্র্রী, রাজনীতিবিদরা জনগণকে আওয়ামী লীগমুখী করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সভায় নিজের স্থান করে নিয়েছেন। তবে দলের অন্য রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের মনেও জায়গা করতে পারেননি। তাঁরা বরং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা লঙ্ঘন করে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন্ন করায় ব্যস্ত। ২০১৯ সালে সঠিক ভোটার তালিকার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং সেই নির্বাচনে দেশবিরোধী কোনো শক্তি ক্ষমতায় চলে এলে প্রধানমন্ত্রী দায় এড়াতে পারবেন না। তবে এখনো তিন বছর সময় বাকি।–কুমারেশ চন্দ্র,

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

সরকার দুই বছর সফলতা ও ব্যর্থতার ভেতর দিয়েই  এসেছে। শিক্ষায় সাফল্য মোটামুটি ভালোই। যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ অবস্থায় যদি বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে সমঝোতায় পৌঁছানো যায় সরকার আরো প্রশংসা পাবে।–বজলুর রহমান,সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

২০১৪ আর ২০১৫ সালের মধ্যে মিল ছিল। এই দুই বছরেরই শুরুটা ছিল সরকারের জন্য অস্বস্তির; কিন্তু শেষটা ছিল অসাধারণ সব সাফল্যে মোড়ানো। ২০১৪ ছিল নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তি, আর ২০১৫ সাল ছিল বিএনপি জোটের আন্দোলন নিয়ে অস্বস্তি। টানা ৯২ দিনের অসহনীয় অবরোধ-হরতাল সরকার খুবই সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পেরেছে। সরকার মানুষের মধ্যে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস সঞ্চয় করে দিয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জাপানি ও ইতালিয়ান নাগরিক হত্যা, তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা, খ্রিস্টান ধর্মযাজক হত্যাচেষ্টা ইত্যাদি নানা অপকর্ম হয়েছে। কিন্তু মানুষ ভয় না পেয়ে দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর জায়গা থেকে সর্বোচ্চটুকু দিচ্ছেন বলেই মনে হয়।– মো. শাহরুখ আলম শান্তনু, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

আমাদের দেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উঠে এসেছে। গ্যালপের হোপ ইনডেক্সে এসেছে সুইজারল্যান্ডের পরেই বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে আশাবাদী দেশ। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ অর্থনীতি ও জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের মাতৃসূচকে বাংলাদেশের স্থান ১৩০তম। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো দুর্লভ স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলা নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধির ও সম্ভাবনার আরেকটি বড় উদাহরণ। বর্তমান সরকার তা শক্ত হাতে দমন করে চলেছে। তবে এ সরকারকে তাদের সুনাম ধরে রাখতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কর্মকাণ্ডকে নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে।– সোলায়মান শিপন, চর কালীগঞ্জ, বরইতলা, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

প্রধানমন্ত্রীর আত্মবিশ্বাস ও আইকনিক লিডারশিপকে সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে আমি মনে করি। সহিংসতার আগুনে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছিল, শত শত মানুষ আগুনে পুড়ে মারা বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতা, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ দেশকে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানুষ যাতে ন্যায়বিচার পায়, নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে।– মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, চট্টগ্রাম।

নির্বাচন ইশতেহার অনুযায়ী পদ্মা সেতু প্রকল্প গ্রহণ বড় সাফল্য। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়ন, স্যাটেলাইট চুক্তি, মেট্রো রেল প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের মতো বড় বড় উন্নয়নকাজের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।

তবে আমাদের নৈতিকতা ও রাজনৈতিক ভাবাদর্শের উন্নয়ন হয়নি। সরকার আবারও সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন দেবে বলে যে কথা দিয়েছে তা এখনো পূর্ণ করেনি। অন্যদিকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট, আধিপত্য বিস্তার, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি এখন আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়নি। ফলে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন ব্যাহত হচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের সততার সার্টিফিকেট দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বছরজুড়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সংঘর্ষের ঘটনা ছাত্রদের পড়ালেখায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষকদের বেতনে অসমতা এবং তাঁদের মানববন্ধন আন্দোলন শিক্ষাঙ্গনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। রেল ও বিমান যোগাযোগের খাতগুলোতে পর্যাপ্ত যাত্রী থাকার পরও লোকসান গুনতে হচ্ছে। এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।–হাসানুল করিম, সীতাকুণ্ড কলেজ, চট্টগ্রাম।

সরকার বলছে ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। মাথাপিছু আয়, গড় আয় বৃদ্ধি নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হতে পারে। শুভঙ্করের ফাঁকিটা এখানে যে একজন হতদরিদ্রের সঙ্গে একজন কোটিপতিও এসে একসঙ্গে মিশেছে।– শোভন ভৌমিক,  ছোট কুমিরা, চট্টগ্রাম।

শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, আইনিসেবা—এসবের ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য তৃণমূলের সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। সরকার দলীয় লোকদের বেশি মূল্যায়ন করে। বিরোধী দলের প্রতি যে মনোভাব তা গণতান্ত্রিক নয়। পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। টাকা যার শিক্ষা তার—এমন নীতি চলছে। ফলে গরিবের সন্তানরা পড়ালেখায় এগোতে পারছে না।—ইসমাইল হোসেন, বায়েজিদ বোস্তামি, চট্টগ্রাম।

সরকারের দুই বছরের সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ছিটমহল সমস্যার সমাধান। দ্বিতীয় সাফল্য বিশ্বব্যাংকের অর্থ না নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু।–মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন

মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চট্টগ্রাম।

 

আমরা গণতান্ত্রিক চর্চায় অনেক পিছিয়ে রয়েছি। গত বছর অনেক জ্বালাও-পোড়াও হলেও এই বছর খুবই শান্তির পরিবেশ বিরাজ করছে।–মোহাম্মাদ নাজিম আদি, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

দেশে অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে, চলছে উন্নয়নযজ্ঞ। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে। বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে পড়া দেশের জন্য এসবই বড় সুসংবাদ। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য বিশ্বনেতারাও প্রশংসা করতে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের এমডিজির অনেকটাই বাংলাদেশ পূরণ করতে সক্ষম হয়। সরকারের ব্যর্থতাও আছে। ঢাকার ফুটপাতগুলো বেদখলই থাকছে। ঘটছে না যানজট থেকে মুক্তি। এখানে প্রশাসনের ব্যর্থতা শতভাগ। রেললাইন সম্প্রসারিত হয়নি। আধুনিকীকরণ হয়নি। অথচ  রেলভাড়া বৃদ্ধি চলছেই। গণতন্ত্র সবার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেনি। আগামী দিনগুলোতে আমরা চাই সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র সবল হোক। প্রশাসনের সর্বক্ষেত্র হোক দুর্নীতিমুক্ত।

মিজানুর রহমান, বানাসুয়া, কুমিল্লা।

সরকার সব দিক দিয়েই ভালো করেছে, একটা কাজ খারাপ হয়েছে। সরকারি চাকুরেদের বেতন দ্বিগুণ করা। এর ফলে সব কিছুর দর বেড়ে গেছে।