banner

শেষ আপডেট ২০ এপ্রিল ২০১৯,  ১৮:৪৮  ||   বুধবার, ২৪ই এপ্রিল ২০১৯ ইং, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

চসিকের গৃহকর নিয়ে ৯৯ শতাংশই খুশি

চসিকের গৃহকর নিয়ে ৯৯ শতাংশই খুশি

৪ নভেম্বর ২০১৭ | ২২:৩১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চসিকের গৃহকর নিয়ে ৯৯ শতাংশই খুশি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পঞ্চবার্ষিকী গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের আপিল পর্যালোচনা চলছে। পুনর্মূল্যায়নের পর আরোপ করা বর্ধিত গৃহকরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের আন্দোলন চলছে।

গত রবিবার থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আমরা ২০০ জনকে নোটিশ দিয়েছিলাম। এর মধ্যে প্রায় ১৮৫ জন উপস্থিত হয়েছেন আপিল বোর্ডে। ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কর কমানো হচ্ছে। যাঁরা রিভিউ বোর্ডে আসছেন তাঁরা সবাই সন্তুষ্ট। ’‘আমরা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করে দিচ্ছি। এতে দু-একজন হয়তো বলতে পারে আমাদের কর আরো কমানো দরকার ছিল। আসলে যতই আমরা কমাই না কেন তারা চায় আরো কমানো হোক। আসলে আমরা সরকারি নিয়মনীতি মেনে যাতে সবাইকে সন্তুষ্ট করা যায় সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মতে আপিল বোর্ডে আসাদের মধ্যে শুনানি শেষে নির্ধারণ করা গৃহকর নিয়ে ৯৯ শতাংশই খুশি। ’পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়নে আপিল রিভিউ বোর্ডের গত পাঁচ দিনের শুনানিতে যারা এসেছে তাদের গড়ে ৭০ শতাংশ গৃহকর কমানো হয়েছে। এতে পুনর্মূল্যায়িত করের মাত্র ৩০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া আপিল বোর্ডের শুনানিতে ৬৭০ জন বাড়ির মালিকের আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ৮১০ জন বাড়ির মালিককে আপিল শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও ১৪০ জন অংশ নেননি। আপিল শুনানিতে অংশ নেওয়া মালিকদের গৃহকর সাত কোটি ৩৭ লাখ চার হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শুনানি শেষে দুই কোটি ২৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬০০ টাকা চূড়ান্ত হয়েছে। আগে নির্ধারিত হিসেবে তাঁদের গৃহকরের পরিমাণ ছিল ৯৬ লাখ ৮৬ হাজার ৯০ টাকা। অর্থাৎ পর্যালোচনার পরও আগের তুলনায় তাদের প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ১৩০ শতাংশ বেশি কর দিতে হবে।

গত রবিবার থেকে আপিলের শুনানি শুরুর আগে পুনর্মূল্যায়নের পর আরোপ করা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্ধিত গৃহকর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। নগরের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নতুন এই গৃহকরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ১৪ দলের চট্টগ্রামের নেতারাও বর্ধিত গৃহকরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশ। চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ, ক্যাব চট্টগ্রামও বর্ধিত গৃহকরের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। এর মধ্যে ক্যাব তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে শুরু করেছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম বর্ধিত গৃহকর স্থগিত করার জন্য মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে চিঠি দিয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল গত সপ্তাহে মেয়রের সঙ্গে এ ব্যাপারে দেখা করে তাদের অবস্থান ও মতামত তুলে ধরে।আপিল শুনানির পর নির্ধারিত গৃহকরে মালিকরা খুশি। যাঁরা আপিলে আসছেন তাঁরা সন্তুষ্ট। এখন প্রকাশ্যে বিরোধিতা নেই গৃহকরের বিরুদ্ধে। নতুন নিয়মে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে পুনর্মূল্যায়ন শেষে বাড়ির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার আপিল জমা পড়েছে। আপিলের সময় আরো বাড়ানো হতে পারে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি চলবে।