banner

শেষ আপডেট ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  ২৩:১৫  ||   রবিবার, ২২ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

সংকট সমাধানে আন্তরিকতা প্রয়োজন

সংকট সমাধানে আন্তরিকতা প্রয়োজন

৪ অক্টোবর ২০১৭ | ০২:২৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংকট সমাধানে আন্তরিকতা প্রয়োজন

অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপের কারণে মিয়ানমার সরকার এখন অনেকটাই নরম সুরে কথা বলছে। সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে।

সেই প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মিয়ানমারের মন্ত্রীর সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন সেই বৈঠকে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এ মাসের মধ্যেই একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি বিষয় তারাই নির্দিষ্ট করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি নতুন চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং চুক্তির খসড়া হস্তান্তর করা হয়েছে। আশা করা যায়, আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকলে এবার রোহিঙ্গা সংকট একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাবে।চুক্তির সাফল্য নির্ভর করে উভয় পক্ষের বিশ্বস্ততার ওপর। মিয়ানমার অতীতে চুক্তি করেও তা রক্ষা করেনি।

তাই মিয়ানমার আর কোনো চুক্তি করলেও তা যে রক্ষা করবে কিংবা চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলবে, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অনেকেই মিয়ানমারের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। নামে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হলেও দেশটিতে এখনো সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব প্রবলই রয়ে গেছে। পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় রয়ে গেছে সেনাবাহিনীর হাতে। সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্যও প্রমাণ করে তারা রোহিঙ্গাদের মেনে নিতে রাজি নয়, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানেরও বিরোধী। এমনকি মিয়ানমারের মন্ত্রী যখন ঢাকায় বৈঠক করছিলেন, তখনো সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিপীড়ন চলছিল, তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বলছিল বলে খবরে প্রকাশ। তাই দেশটির সরকার কোনো চুক্তি করলেও সেনাবাহিনী তা কতটুকু মানবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তার পরও আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। আর সেই লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতেই হবে।মনে রাখতে হবে, জাতিসংঘের ব্যাপক উদ্যোগ, নিরাপত্তা পরিষদের তিন দফা বৈঠক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর অবস্থানের কারণেই মিয়ানমার সরকারের সুর কিছুটা নরম হয়েছে। তারা সংকট নিরসনে এগিয়ে এসেছে। কোনো কারণে আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা কমলে যেকোনো সময় তারা পিছুটান দিতে পারে, যা অতীতে তারা করেছে। তাই বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে কোনোভাবেই যেন ভাটা না পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে ‘নীরব কূটনীতি’ চালিয়ে যেতে হবে। দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এমন কিছু করা যাবে না, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের উপস্থিতি ও সম্মতি থাকা প্রয়োজন। দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসহ মৌলিক কোনো বিষয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না। আমরা আশা করি, অতীতে যাই হোক, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার এবার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে।