banner

শেষ আপডেট ১৮ জানুয়ারী ২০১৮,  ১৪:০২  ||   বৃহষ্পতিবার, ১৮ই জানুয়ারী ২০১৮ ইং, ৫ মাঘ ১৪২৪

‘জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন না

‘জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন না

৭ এপ্রিল ২০১৬ | ১৯:৩৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ‘জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন না

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয়করণ হওয়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের আর বদলি হওয়ার সুযোগ থাকছে না। অর্থাৎ তাঁদের চাকরি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থেকে জাতীয়করণ হবে সেখানেই তাঁদের থাকতে হবে। গত ৩ এপ্রিল জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর বদলির বিষয়ে এ বিধান রেখে অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক আবুল কালাম শামসুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হচ্ছে সে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অন্যত্র বদলি হতে পারবেন না। জাতীয়করণ আদেশে এরূপ শর্ত উল্লেখ করতে হবে মর্মে প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুশাসন প্রদান করেছেন। এই অনুশাসন বাস্তবায়নে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত ব্যবস্থা এ কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

এসব বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন  বলেন, ‘জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বদলি হতে পারবেন না, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সংবলিত এ ধরনের একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। তবে আগে যেসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়কৃত হয়েছে তারা এর আওতায় পড়বে না। এখন থেকে যেসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হবে তারা এই অনুশাসনের আওতায় আসবে। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই ব্যবস্থা নেবে। আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে সেভাবেই কাজ করব।’

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ ধরনের অনুশাসনে পক্ষে ও বিপক্ষে দুই ধরনের যুক্তিই পাওয়া গেছে। মাউশি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, একটি এলাকার শিক্ষার উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই ওই এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়কৃত হয়। আর এখন মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোই জাতীয়করণের আওতায় আসছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান জাতীয়কৃত হওয়ার পর দেখা যায়, শিক্ষকরা আর মফস্বলে থাকতে চান না। তাঁরা শহরমুখী হন। বদলির জন্য তদবির করেন, সফলও হন। ফলে মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট দেখা যায়। এতে ওই এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার খুব একটা উন্নতি হয় না।

আবার শিক্ষা ক্যাডারে চাকরির জন্য বিসিএসের মতো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। অত্যন্ত মেধাবী ছাড়া এ বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এমপিওভুক্ত। সেখানে শিক্ষক নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টাকার বিনিময়ে কম মেধাবী ও অদক্ষরা নিয়োগ পান এসব প্রতিষ্ঠানে। অথচ জাতীয়করণ হওয়ার পর সবাই সমমর্যাদা ও সমান সুবিধা লাভ করেন। তবে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকরা বলেছেন, সমমর্যাদার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বদলির সুযোগ রাখাটা জরুরি। কারণ সরকারের পক্ষে সব প্রতিষ্ঠান একবারে জাতীয় করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া দুর্বল-সবল শিক্ষকরা একসঙ্গে থাকলে একটি প্রতিষ্ঠানে ভারসাম্য বজায় থাকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এক প্রতিষ্ঠানে তিন বছরের বেশি না রাখারও একটি প্রথা রয়েছে। কিন্তু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন জাতীয় করা হয় তখন সেটিও একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে দুটি স্কুল ও একটি কলেজ সরকারীকরণের কথা বলেছেন। সে ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হওয়ার পর বদলির ব্যবস্থা না থাকলে এক ধরনের জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘জাতীয়করণ হওয়া স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের চাকরি সরকারি হওয়ার পরই তারা বদলির চেষ্টা করে। তাই বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন অত্যন্ত যৌক্তিক।’

বাংলাদেশ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কুদ্দুস সিকদার  বলেন, ‘সরকার যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে, অনেক সময়ই সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষকদের প্রথমে নন-ক্যাডারভুক্ত এবং একটি নির্দিষ্ট সময় ও যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাডারভুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা যেতে পারে।’

 

Leave a Reply