banner

শেষ আপডেট ২৬ অগাস্ট ২০১৯,  ১০:৪৮  ||   সোমবার, ২৬ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

২৫ এপ্রিলের মধ্যে বহিরাগতদের চট্টগ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

২৫ এপ্রিলের মধ্যে বহিরাগতদের চট্টগ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

২৬ এপ্রিল ২০১৫ | ০১:২০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বহিরাগতদের চট্টগ্রাম ছাড়ার নির্দেশ
বাইরে থেকে ভোটের প্রচার চালাতে আসা বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের ২৫ এপ্রিল রাতের মধ্যে বন্দর নগরী ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন।

ভোটের ছয় দিন আগে বুধবার নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এই নির্দেশনার কথা জানান তিনি।

আব্দুল বাতেন বলেন, “সিটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

২৫ এপ্রিল রাত ১২টার পর প্রয়োজনে বিভিন্ন হোটেল, রেস্ট হাউস ও গেস্ট হাউসগুলোতেও অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানান তিনি।

ভোটগ্রহণের দিন ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীতে সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। ২৭ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে পরদিন রাত ১২টা পর্যন্ত কোনো ধরনের যানবাহান, লঞ্চ, স্টিমার চলাচল করতে পারবে না।

এছাড়া ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ২৯ এপ্রিল সকাল ৬টা পর্যন্ত নগরীতে সব ধরনের মোটর সাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

তবে মহাসড়কে সব ধরনের গাড়ি চলাচল করতে পারবে। নগরীতে শুধু নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত মোটর সাইকেল, যানবাহন ও ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে পারবে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

প্রচারণার বিষয়ে বাতেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইনানুযায়ী ভোট গ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে থেকে অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যে সকল প্রকার প্রচারণা বন্ধ করে ফেলতে হবে।

“যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

যদি কোনো বাহিনী আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ঠেকাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তবে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসক দেখবেন বলে জানান তিনি।

প্রতিবারের মতো এবারও এম এ আজিজ স্টেডিয়াম এলাকা থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, “২৭ এপ্রিল বিকাল থেকে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে।”

ওই দিন থেকে স্টেডিয়াম এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ওই এলাকার সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশও দেন তিনি।

ফলাফল ঘোষণার দিন নগরীর কাজীর দেউড়ি, নেভাল এভিনিউ ও স্টেডিয়ামের দক্ষিণ গেইট এলাকা থেকে যানবাহনের পাশাপাশি মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ভোটের দিন চট্টগ্রামে এক ব্যাটালিয়ন সেনা সদস্য থাকবে। ৭১৯টি কেন্দ্রে ১৭ হাজার পুলিশ-আনসার সদস্যের পাশাপাশি রেব ও বিজিবিও মোতায়েন থাকবে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সরকারি দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী এম মনজুর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুদল বাতেনের সঙ্গে দেখা করে এই স্থানটি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ, দামপাড়া জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের নিচতলা ও পাঁচলাইশ জাতিসংঘ পার্কে সিটি করপোরেশনের জিমনেসিয়াম এলাকা থেকে ফলাফল ঘোষণার প্রস্তাব দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতেন বলেন, “জাতিসংঘ শিশু পার্ক নির্মাণাধীন থাকায় সেখানে সব প্রকার লজিস্টিক সাপোর্ট পাওয়া যাবে না। সার্কিট হাউসে জায়গা কম। জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।”

সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিবেচনা করে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম পরিবর্তন করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।