banner

শেষ আপডেট ১২ ডিসেম্বর ২০১৭,  ১২:০০  ||   মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

৩ লাখ ৬০ হাজার সরকারি পদ শূন্য, মামলার কারণে নিয়োগ বিলম্বিত :: দি ক্রাইম :: অপরাধ দমনে সহায়ক ::

৩ লাখ ৬০ হাজার সরকারি পদ শূন্য, মামলার কারণে নিয়োগ বিলম্বিত

২০ নভেম্বর ২০১৭ | ১৯:১৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩ লাখ ৬০ হাজার সরকারি পদ শূন্য, মামলার কারণে নিয়োগ বিলম্বিত

ঢাকা অফিস : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক বলেছেন, দেশের সরকারি অফিস, মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসমূহে বর্তমানে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১ টি পদ শূন্য রয়েছে। কিন্তু নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার কারণে নিয়োগ বিলম্বিত হয়।

সময়মত আমরা নিয়োগ দিতে পারছি না।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ১৮তম অধিবেশনে আজকের বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে মোরশেদ আলমের (নোয়াখালী-২) লিখিত ও মো. মোসলেউদ্দীনের (ময়মনসিংহ ৬) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রশ্নর জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পক্ষে তিনি সংসদেও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

সরকারি অফিসে ৩ লাখ ৬০ হাজার পদ শূন্য
মোরশেদ আলমের (নোয়াখালী-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি অফিস, মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসমূহে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১ টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদ পূরনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি অফিসমূহে শূণ্য পদে লোক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর অধীন সংস্থাসমুহের চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৮ম, ৯ম, ও ১০ থেকে ১২ গ্রেডের (১ম ও ২য় শ্রেণি) শুন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। ১৩-২০ গ্রেডের ( ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি) পদে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/ অধিদপ্তর/ সংস্থার নিয়োগবিধি অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেয়া হয়।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ হতে ধারাবাহিকভাবে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে নতুন পদ সৃজনে সম্মতি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সৃজিত পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে।

এ মনসিংহের এমপি মো. মোসলেউদ্দীনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইসমত আরা সাদিক বলেন, আপনি সঠিক বলেছেন। মামলার কারণে নিয়োগ মন্থর ও বিলম্বিত হয়। নিয়োগ বিধি অনুযায়ী আমরা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করি। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার কারণে নিয়োগ বিলম্বিত হয়। সে জন্য সময়মত আমরা নিয়োগ দিতে পারছি না।

নিয়োগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেই
মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম (চাদপুর-৫) এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নিয়োগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেই। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার অধীনে। বিএসএস পরীক্ষার মাধ্যমে কর্ম কমিশন ক্যাডার ও নন ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে নিয়োগের সুপারিশ করে থাকে। সে কারণে শূন্য পদের সব হিসাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নেই। কোন উপজেলায় কী পদ শূন্য আছে জানি না। কোন বিভাগে কত পদ শূন্য সেই মন্ত্রণালয় জানে। আমাদের কাছে সম্পূর্ণ হিসেব নেই। আপনি চাইলে সংগ্রহ করে সংসদে জানাতে পারব।

সরকারী কর্মকর্তাদের জ্বালানী খরচ প্রায় ৪০ কোটি
এ কে এম শাহজাহান কামালের (লক্ষীপুর-৩ ) টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, সরকারের ভি-ভিভিআপি এবং ভিআইপিগণের জেলা সফরসহ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনে প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত যার বাহনে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে মোট ৩৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা জ্বালানী বাবদ ব্যয় হয়েছে

মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী সরকারের উপ সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যন্ত প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারের কর্মকর্তাদের গাড়ির গ্যাস ও জ্বালানী বাবদ গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। পেট্রোল ও লুব্রিক্যান্ট খাতে ব্যয় হয়েছে ৩২ কোটি টাকা। জলযানে ব্যবহারের জন্য পেট্রোল ও লুব্রিক্যান্ট খাতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মন্ত্রী আরো জানান, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাসিক ১৮০ লিটার পেট্রোল অথবা সিএনজি চালিত গাড়ির স্টার্ট আপ হিসেবে ২৭ লিটার পেট্রোল এবং ২৭০ ঘনমিটার গ্যাস জ্বালানী হিসেবে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ করা হয়। এছাড়া এসব কর্মকর্তাদের নিজ গাড়ী ব্যবহার বাবদ ড্রাইভার ও রক্ষাণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ২৫ হাজার এবং সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধাপাপ্ত কর্মকর্তারা দপ্তর প্রধানের বিশেষ সুপারিশক্রমে মাসিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পান বলেও জানান মন্ত্রী।

 

Leave a Reply