banner

শেষ আপডেট ২ জুলাই ২০১৭,  ২০:১২  ||   সোমবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং, ১০ আশ্বিন ১৪২৪

১৪ দলীয় জোটের শরিকদের শর্তে ইসলামী দলগুলো সাড়া দিচ্ছে না :: দি ক্রাইম :: অপরাধ দমনে সহায়ক ::

১৪ দলীয় জোটের শরিকদের শর্তে ইসলামী দলগুলো সাড়া দিচ্ছে না

১৭ জুন ২০১৭ | ২১:১৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের শর্তে ইসলামী দলগুলো সাড়া দিচ্ছে না

ঢাকা অফিস : আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের হিসাব মেলাতে আওয়ামী লীগের ইসলামী দলগুলোকে সঙ্গী করার প্রথম পদক্ষেপ অনেকটাই হোঁচট খেয়েছে। ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের শর্তে ইসলামী দলগুলো সাড়া না দেওয়ায় এ বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোকে জোটে নেওয়ার আলোচনায় অগ্রগতি না থাকলেও অন্যান্য দলগুলোর জোটে অন্তর্ভূক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। আগামী নির্বাচনের জন্য জোট সম্প্রসারণের এই তোড়জোড়ে নিবন্ধিত দলগুলো ছাড়াও অনিবন্ধিত কোনো কোনো দলকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

জোট নেতারা বলছেন, এসব আলোচনা এখনো অনানুষ্ঠানিক। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর জোটের আদর্শ অনুসরণ করে কোনো দল প্রস্তাব করলে তা গ্রহণ করা হবে। তবে নির্বাচনের আগে জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে তারা অনেকটাই নিশ্চিত।

গত মে মাসে ১৪ দলীয় জোটে যোগ দিতে জোট নেতাদের সাথে আলোচনায় বসেছিল ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ। মূলত বিএনপি-জামায়াতের ‘ইসলামি ভোটব্যাংকে’ ভাগ বসাতে জোটের নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগের পরিকল্পনায় দলটি এগিয়ে আসে।

আরও কয়েকটি ইসলামী দলকে জোটে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আওয়ামী লীগের অতীতের রাজনৈতিক মিত্র ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সাথেই প্রথম আলোচনা হয় ১৪ দলের।

এর আগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলটির সভাপতি সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী জয়লাভ করতে পারেননি। তবে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে নিয়মিতই সরব ছিল দলটি।

১৪ দলীয় জোটের আলোচনায় দলটির অন্তর্ভুক্তির প্রথম বিরোধিতা করে জোটের আরেক ইসলামী দল তরিকত ফেডারেশন। গত সংসদ নির্বাচনের আগে ১৪ দলে আসা এই দলটি ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের আদর্শসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশ্ন তুলে। পরে জোটের অন্য শরীকরাও দলটি সম্পর্কে তারা ‘তেমন জানেন না’ জানিয়ে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেন। তবে গত ১ মাসেও তাতে সাড়া দেয়নি ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট।

এ বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান বলেন, ২-১ টি ইসলামী দল ১৪ দলের আলোচনায় ঢুকেছে। তারা আমাদের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাইরে থাকলেও আমাদের আন্দোলনের পাশে থেকেছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সত্যিই এমন হলে তো তাদের আমরা অভিনন্দন জানাব। সে জন্য তাদের বলেছি, আমাদের আদর্শ মানলে আপনাদের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র দেখান। কারণ, অনেকের গঠনতন্ত্রে তো খেলাফত রাষ্ট্র গঠনের কথা রয়েছে। যা আমাদের সংবিধান ও জোটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর তাদের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে আমরা তাতে আপত্তি জানাব, কিন্তু এখনো তারা সেসব দেয়নি।

এ বিষয়ে জোটের শরীক তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল বলেন, ওই আলোচনায় আর কোনো অগ্রগতি আসেনি। ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আমাদের কাউকেই তাদের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র দেয়নি। ফলে আলোচনাও হয়নি, এগুলো পেলে হয়ত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।

আলোচনা চলছে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত দলের সঙ্গে

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর আওয়ামী লীগের জোট গঠনের উদ্যোগ থেকে পরের বছর ২৩ দফার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় ১৪ দল। তবে জাসদ ও ন্যাপের সাথে এ জোটে আসা বাম-প্রগতিশীল জোটের ১১ দলের মধ্যে সিপিবি, বাসদসহ চারটি পরে বেরিয়ে যায়। এছাড়া পরবর্তীতে গণফোরামকে বাদ দেওয়া হয়।

পরে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১৪ দলে নেওয়া হয় তরিকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টিকে (জেপি)। এবার আরেকটি নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত আরও কয়েকটি দলকে জোটে নেওয়ার আলোচনা চলছে। অবশ্য ১৪ দলে বর্তমানেও ৪ টি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে।

জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে রেজাউর রশীদ খান বলেন, অনেক দলই আলোচনা করছে। কিছু আলোচনা হয়েছে, আরও হবে। কিছু নিবন্ধিত দলসহ আরও কয়েকটি দল রয়েছে, কথা শেষ না হওয়ার আগপর্যন্ত আমরা তা বলতে চাচ্ছি না।

তিনি বলেন, জোট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার ৪ মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী হলে, সেই ভিত্তিতে তাদের নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে জোট নেতা এমএ আউয়াল বলেন, আনঅফিসিয়ালি অনেকের সাথে আলোচনা হচ্ছে, তবে সেটা এখনই বলা যাবে না; কারণ এখনো অফিসিয়ালি কিছু হয়নি। আমরাও চাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুসরণকারী দলগুলো আসুক।

তিনি বলেন, ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট, আমাদের ২৩ দফার ভিত্তিতে যে দলই আসুক; তাদের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে জোটের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু আছে কি না সেটা যাচাই করা হবে।

তবে ১৪ দলে নতুন কোন দল আনার প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো দলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনো আসেনি, ফলে কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। তবে কেউ আসলে, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে দেখা যাবে। তখন আদর্শ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ১৪ দলে নতুন কোন দলের প্রয়োজন নেই। এমন কোনো দল নেই যে তারা ভোটে বা আন্দোলনে গতি বাড়িয়ে দেবে। তাই নতুন করে কাউকে অন্তর্ভূক্তির প্রয়োজন নেই।

আপত্তি নেই নির্বাচনী জোটে

১৪ দলে নতুন কাউকে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে আদর্শিক প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসলেও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটে অন্যরা সম্পৃক্ত হতে চাইলে শরিকদের আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতা ও গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আছেন। ক্ষমতায় যেতে তার অনেক কৌশলের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি নির্বাচনে জিততে অন্যান্য দলের সাথে কথা বলতেই পারেন।

তবে ১৪ দলে এমন সুযোগ নেই ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, জোটের ২-৩ টি দল সরকারে আছে, বাকিরা নেই। কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি নির্দিষ্ট ২৩ দফার ভিত্তিতে। আমরা কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। এখন এর কলেবর বৃদ্ধি হলে সেটা জোটের আদর্শ মেনেই হতে হবে, আলোচনার ভিত্তিতে।

তিনি বলেন, কেউ আসতে চাইলে তাদের আদর্শ, ঘোষণাপত্র, মূলমন্ত্র দেখা হবে। তবে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ১৪ দলের কলেবর বাড়তে পারে। জোটের আদর্শ মেনে কেউ যদি আসতে পারে তাহলে তো অসুবিধা নেই। আর আদর্শিক জোট ও নির্বাচনী জোটে পার্থক্য আছে, ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট।

এর আগে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সাথে আলোচনার পর ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, কোন দল প্রস্তাব পাঠালে তা জোট নেতাদের সাথে আলোচনার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি সম্মতি দিলে তাদের জোটে নেওয়া হবে।

 

Leave a Reply