banner

শেষ আপডেট ২ জুলাই ২০১৭,  ২০:১২  ||   সোমবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং, ১০ আশ্বিন ১৪২৪

ধর্ষকদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করুন :: দি ক্রাইম :: অপরাধ দমনে সহায়ক ::

ধর্ষকদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করুন

২৪ মে ২০১৭ | ১০:৪৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ধর্ষকদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করুন

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে ধর্ষণের ঘটনা। শুধু অভিভাবক নয়, সমাজের বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন প্রত্যেক মানুষ আজ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র—প্রতিটি জায়গায় নারীরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার। এমনকি নিজ বাড়িতেও বহু নারীর নিরাপত্তা নেই। কেন এমন হচ্ছে? এর পরিণতি সমাজকে কোথায় নিয়ে যাবে? অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ধর্ষকরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে অপরাধ করতে তারা উত্সাহিত হচ্ছে। অভিযোগ আছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ধর্ষকদের সহযোগিতা করার অভিযোগও প্রচুর। সেই সঙ্গে রয়েছে তদন্তে গাফিলতি, দুর্বল অভিযোগপত্র, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ধর্ষকদের রেহাই পেয়ে যাওয়া। ধর্ষণের বিচার না হওয়ার কারণ ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে আলোচনা অনেক দিন ধরেই হচ্ছে। দুঃখজনক হলো, সেই অবস্থার কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাহলে সমাজের এই ভয়ংকর অবনতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৭ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে আট হাজার ৪৬৩টি। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা হবে কয়েক গুণ বেশি। কারণ অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে মামলা করতে আসে না। তার ওপর রয়েছে প্রভাবশালী ধর্ষকদের হুমকি-ধমকি, সালিসের নামে টালবাহানা, বিচার না পাওয়ার শঙ্কা এবং এমনি আরো অনেক বিবেচনা। তার পরও যারা সাহস করে থানায় মামলা করতে আসে, তারাও অনেক বিড়ম্বনার শিকার হয়। থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগও প্রচুর। তাই থানা-পুলিশের হিসাব ও বাস্তব সংখ্যার ফারাক দিন দিন বাড়ছেই। যারা ধর্ষণের শিকার হয়, সাধারণত তারা নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। বিপরীতে ধর্ষকরা হয়ে থাকে প্রভাবশালী পরিবারের। তারা বিচার চাইতেই ভয় পায়। বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও লাভ হয় না। গাজীপুরে আট বছরের মেয়ের যৌন নির্যাতনের বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন বাবা হজরত আলী। থানায়ও অভিযোগ দিয়েছিলেন। কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে অপমান সইতে না পেরে মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এমন ঘটনা একটি, দুটি নয়, হাজারে হাজার। মামলা হলেই বা কী? বছরে যত মামলা হয়, বিচার হয় তার মাত্র ৩.৬৬ শতাংশের। দুর্বল তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে সাজা হয় ১ শতাংশেরও কম ধর্ষকের।

সমাজের প্রত্যেক মানুষ চায় শান্তিতে ও মানসম্মান নিয়ে বাঁচতে। রাষ্ট্রের তথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দায়িত্ব মানুষের সেই চাহিদা পূরণ করা। কিন্তু তারাই যদি এভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? আমরা আশা করি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে। ধর্ষণের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সামাজিকভাবেও এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

 

Leave a Reply