banner

শেষ আপডেট ২০ নভেম্বর ২০১৭,  ২০:৩৯  ||   সোমবার, ২০ই নভেম্বর ২০১৭ ইং, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ডলারের দরে কিছুটা স্বস্তি আমদানিতে :: দি ক্রাইম :: অপরাধ দমনে সহায়ক ::

ডলারের দরে কিছুটা স্বস্তি আমদানিতে

১২ জুন ২০১৭ | ২২:২০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ডলারের দরে কিছুটা স্বস্তি আমদানিতে

অর্থনীতি ডেস্ক : আমদানি পর্যায়ে ডলারের দর এখন বেশ স্বস্তিদায়ক। গতকাল রবিবার দেশের ব্যাংকগুলোতে আমদানি পর্যায়ে ডলারের দর ছিল ৮২ টাকার নিচে।

একটি-দুটি দুর্বল ব্যাংক ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকের নগদ ডলারের দর ছিল ৮৩ টাকার নিচে।ব্যাংকগুলোর ঘোষিত বিদেশি মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী গতকাল রবিবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে আমদানি পর্যায়ের (বিসি) ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে, ৮১.৮০ টাকা। এনআরবি গ্লোবাল ও মেঘনা ব্যাংকে ডলারের দর ছিল ৮১.৭৫ টাকা। সর্বনিম্ন দর ছিল ওরি ব্যাংকে, ৮০.৫০ টাকা। ঢাকা, কৃষি, ট্রাস্ট, মধুমতি, ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডলারের দর ছিল ৮১.৬০ টাকা।

অন্যদিকে নগদ ডলারের দর সবচেয়ে বেশি ছিল ফারমার্স ব্যাংকে, ৮৪.৭০ টাকা। আইসিবি ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকের ছিল ৮৪ টাকা। এরপর ছিল পূবালী ও হাবিব ব্যাংকের ৮৩.৭০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকে নগদ ডলারের দর ছিল সর্বনিম্ন, ৮১.৫০ টাকা।

মানি এক্সচেঞ্জগুলোতেও এখন নগদ ডলারের দর তুলনামূলক কম। গতকাল রাজধানীর পল্টন এলাকার মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো ৮২.৪০ টাকা থেকে ৮২.৬০ টাকায় ডলার কেনাবেচা করেছে। একইভাবে খোলাবাজারে বা কার্ব মার্কেটেও ডলারের দর এখন ৮২.৬০ টাকার নিচে রয়েছে।

গত এপ্রিলে তরল ডলারের সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দিয়ে অযৌক্তিক হারে ডলারের দর বাড়ানোর ফলে আমদানীকৃত পণ্যের বাজারেও অস্থিরতার আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। রোজার ঠিক মাসখানেক আগে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় অনেক ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অবশ্য হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, ‘ডলারের এই দর বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারসাজি রয়েছে। ’ তিনি এটাও বলেছেন, যেসব ব্যবসায়ী বা আমদানিকারক কারসাজি করে রমজানের পণ্যের দাম বাড়াতে চেষ্টা করবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ডলারের দর নিয়ে ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ সময় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব করা হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সভাপতি ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ব্যাংক কী পরিমাণ ডলার নিজের কাছে রাখতে পারবে (নিট ওপেন পজিশন) তা নির্ধারণে যৌক্তিক হওয়ার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দাবি জানিয়েছি। কেননা অনেক বড় ব্যাংক আছে যাদের রেমিট্যান্স বেশি, তাদের ডলার ধরে রাখার সুযোগ বেশি। আবার কোনো ব্যাংক আছে রেমিট্যান্স কম। সবার নিট ওপেনিং পজিশন এক হারে থাকলে চলবে না। এটিকে যৌক্তিক করতে হবে। ’

নুরুল আমিন আরো বলেন, ‘বাফেদার পক্ষ থেকে আমরা বৈঠকে বলেছি যে সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা ডলারের দর ৮২ টাকার নিচে রাখতে চেষ্টা করব। তা ছাড়া যারা ডলারের প্রধান ক্রেতা তাদেরও দেখা উচিত যে তারা কী পরিমাণ ডলার বাজার থেকে নিচ্ছে। বিষয়গুলো পুরোপুরি অপারেশনাল বিষয়। আমি মনে করি এই বৈঠকের পর থেকে বাজার আরো স্থিতিশীল হবে এবং ডলারের দর বাড়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না। ’

দেশের ভেতরে বিদেশি ব্যাংকিং করা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) নিয়ে বিশদ নীতিমালা থাকলে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে জানান বাফেদা সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ওবিইউ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। তা ছাড়া ডাইবর রেট যেটা আছে সেটা খুব একটা ফলপ্রসূ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই এ বিষয়েও একটি সার্কুলার দেবে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি মুদ্রা লেনদেনে ব্রোকারেজ হাউস চালুর বিষয়েও আমরা প্রস্তাব করেছি। ব্যাংকগুলোকেও আমরা বলেছি যেন তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাফেদার সিদ্ধান্তগুলো মেনে চলে। এই সিদ্ধান্ত না মেনে চলার কারণে গত কয়েক দিন ডলারের দর বেড়ে গেছে। ক্রস কারেন্সি কনভারশনে কিছু কমবেশি হয়েছে। এই বিষয়ে যদি নীতিমালা বা নিয়ম-কানুন থাকে তাহলে এ রকম পরিস্থিতি আর হবে না। ’

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বিপিসি ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজারের কয়েকটি বড় পাওনা পরিশোধের আগে আগে আমদানি পর্যায়ের ডলারের দর ৮৫ টাকায় উঠে যায়। এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টেলিফোন করে অযৌক্তিক হারে ডলারের দর না বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ফলে ওই সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ডলারের দর কমে ৮৩ টাকার নিচে নেমে আসে।

 

Leave a Reply