banner

শেষ আপডেট ২০ নভেম্বর ২০১৭,  ২০:৩৯  ||   সোমবার, ২০ই নভেম্বর ২০১৭ ইং, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ইয়াবার বিরুদ্ধে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর জিহাদ, তবুও চলছে জমজমাট ব্যবসা :: দি ক্রাইম :: অপরাধ দমনে সহায়ক ::

ইয়াবার বিরুদ্ধে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর জিহাদ, তবুও চলছে জমজমাট ব্যবসা

১০ মে ২০১৭ | ১৯:৪২ |    নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ আনোয়ারা উপজেলা ইয়াবা পাচারকারীদের একমাত্র অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। আর এ উপজেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রতিদিনই কোটি টাকার ইয়াবা খালাস হচ্ছে। কিন্তু এ ইয়াবা খালাসের দুই একটি তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানা থাকলেও বেশির ভাগই জানা থাকে না তাদের। আনোয়ারা  উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থানের পরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চারদিনের ব্যবধানে উপজেলার কয়েকটি স্থানে বড় কয়েকটি ইয়াবা চালান খালাসের খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে আনোয়ারা উপজেলাজুড়ে চলছে তোলপাড়।জানা যায়, মধ্যরাতে উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুরের ছিপাতলী ঘাটে প্রায় দেড় কোটি টাকার মূল্যের ১৪০ কার্টুন ইয়াবা খালাস হয়। ১৪০ কার্টুনের মধ্যে চার লাখ পিস ইয়াবা ছিলো। এর আগের শুক্রবার উঠানমাঝির ঘাট এলাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি বড় ইয়াবা চালানও খালাস হয়।অভিযোগ রয়েছে ওই এলাকাগুলো জুড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নেতৃত্বে এ ইয়াবাগুলো খালাস হয়। আর ইয়াবা খালাসের
জন্য নেতাদের অনুসারিরা নিয়োজিত থাকে। তাছাড়াও ইয়াবা চালানের পেছনে আনোয়ারার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এ সিন্ডিকেট সদস্যদের নাম পরিচয় ও ঠিকানা সবার জানা থাকলেও ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে নারাজ, কারন তারা প্রভাবশালী। যার কারণে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট
সদস্যরা।
জানা যায়, মিয়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলাারে আনা এসব ইয়াবা আনোয়ারার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে খালাস হয় বেশিরভাগই সময়। আর এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত আছেন। পুলিশ উপজেলার রায়পুর, বারশত, জুঁইদন্ডি, বটতলী, বরুমচড়া, চাতরী, বৈরাগ, হাইলধর, পরৈকোড়া, উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র চাতরী চৌমহনী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয় না। এদিকে এসব ঘটনায় আনোয়ারা থানায় অর্ধশত মামলা হলেও রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের কারণে পুলিশ নিরুপায় হয়ে আটক করতে সক্ষম হয় না বলে জানায় পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত পারকি বিচকে ঘিরে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সক্রিয়া থাকে সব সময়। তারা বালুর নিচে ইয়াবা রেখে প্রশাসনের চোখকে ফাকিঁ দিয়ে নীরবে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছে। সৈকতে অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করলেও বন্ধ হয় না ইয়াবা ব্যবসা। উপজেলার বৈরাগ আমান উল্লাহ পাড়া শেখ আহমদ ওরপে বাবা শেখু,খুরুস্কুলের কালা কাশেম, কালা ছাদেক, কামাল, পারকি বিচের সোহেল শাহ, রায়পুরের নূর সৈয়দ, মালঘর গ্রামের কথিত যুবলীগ নেতা মোখতার আহমদ । এর আগে পারকি বিচে বিশেষ অভিযানে জালাল শাহকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সে জামিনে বের হয়ে আবারো ফিরেছে পুরনো চেহারায়।
ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূ’মি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম.পি ‘জিহাদ’ এর ঘোষণা করেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি উন্নয়ন চান তাহলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করুন । তাদের পুলিশে ধরিয়ে দিন। আমি সব ধরণের সহযোগিতা করে যাব। ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের, কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যদি নিজেদের ভালো চান এই কুকর্ম ছেড়ে অন্যত্রে চলে যান। নতুবা কারো পরিনাম ভালো হবে না বলেও হুশিয়ারি উচ্চারন করেন মন্ত্রী। এর কঠিন ফল
ভোগ করতে হবে। এ সময় স্থানীয় কয়েক হাজার জনতা মন্ত্রীর সাথে ইয়াবা ব্যবসা প্রতিরোধে একাত্মতা প্রকাশ
করেন। তিনি পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, নির্ভয়ে কাজ করুন, আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ সব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেছেন, ‘অতি সম্প্রতি ইয়াবার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমরা বাইনেমে একটা তালিকা পেয়েছি। এতে ইয়াবা নিয়ে চার-পাঁচ ধরণের তালিকা আছে। যেমন- কারা ইয়াবা ব্যবসা করছে, কারা গ্রহণ করছে, কারা বহন করছে, কারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে তাদের নাম রয়েছে। চট্টগ্রামের এক-দুটি উপজেলা ছাড়া বাকি উপজেলাগুলোর নাম আছে। সেই তালিকায় অনেক বর্তমান ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও পৌর কাউন্সিলরের নাম রয়েছে। তারা হয় ইয়াবা ব্যবসা করেন, না হয় এর পৃষ্ঠপোষকতা করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’ তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি ইয়াবা আসছে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, লোহাগাড়াসহ কয়েকটি উপজেলা দিয়ে। এরমধ্যে আনোয়ারায় নদীপথে আসছে ইয়াবা। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরাটা খুব টাফ। তাই এটি প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নাফ নদীতে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ করতে পারলে ইয়াবা আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। এসব জেলেদের মাধ্যমেই বেশিরভাগ ইয়াবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকে। তাদের যদি ওই এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ করে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ পশ্চিম ও পশ্চিম দিকে মাছ ধরতে বলা হয়, তাহলে ইয়াবা
আর আসবেনা বলেও মনে করেন তিনি। আনোয়ারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আটক করে যাচ্ছি। নিয়মিত আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের তালিকাও আমরা করেছি, তাদের
বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেকোন মুহুর্তে গ্রেপ্তার করবো।

 

Leave a Reply