banner

শেষ আপডেট ২ জুলাই ২০১৭,  ২০:১২  ||   সোমবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং, ১০ আশ্বিন ১৪২৪

আইস ফ্যাক্টরি রোডের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় পাশে কাউন্টার বসিয়ে ইয়াবা-ফেন্সিডিল বিক্রি! :: দি ক্রাইম :: অপরাধ দমনে সহায়ক ::

আইস ফ্যাক্টরি রোডের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় পাশে কাউন্টার বসিয়ে ইয়াবা-ফেন্সিডিল বিক্রি!

১২ মার্চ ২০১৭ | ১৬:০১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আইস ফ্যাক্টরি রোডের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় পাশে কাউন্টার বসিয়ে ইয়াবা-ফেন্সিডিল বিক্রি!

ক্রাইম প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীর আইস ফ্যাক্টরি রোডে চট্টগ্রাম মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়। তার মাত্র ১০০ মিটার দূরে রেললাইনের পাশে কাউন্টার বসিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ফেনসিডিল ও ইয়াবা।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই কাউন্টারে আনাগোনা চলে মাদক সেবনকারীদের। অথচ স্থানীয় প্রশাসন নীরব। অবাক স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নগরীর হালিশহর থানার ছোটপুল দক্ষিণ আগ্রাবাদ ১৪২৭/২৯৯৬ গলিতে কাউন্টারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। একইভাবে নগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় রয়েছে মাদক বিক্রির সুনির্দিষ্ট আস্তানা।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের তালিকায়ও ১৬ থানায় ১২২ টির বেশি মাদক বিক্রির আস্তানার তথ্য রয়েছে। এসব আস্তানায় কারা মাদক বিক্রি করে তাদের নাম-পরিচয়ও আছে। তবে তালিকাটি ২১০৪ সালে করা। এরপর আর সেটি হালনাগাদ হয়নি।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরজুড়ে মাদকের এসব আস্তানা এবং মাদক বিক্রেতার বিষয়টি প্রশাসনের সামনে চলে আসে। কারণ, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে জিরো টলারেন্স দেখাতে ১৬ থানার ওসিদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইকবাল বাহার এ প্রসঙ্গে বলেন, মাদকের আস্তানা ও বিক্রেতাদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। খুব শিগগির মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে নামবে পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর ১৬ থানার ১২২টির বেশি স্পটে মাদক বিক্রি হয় নিয়মিত। এসব স্পটের কোথাও ইয়াবা, কোথাও গাঁজা, ফেন্সিডিল আর হেরোইন বিক্রি হয়। প্রতিটি স্পট নিয়ন্ত্রণ করে একেকজন মাদক বিক্রেতা।

কর্ণফুলী থানা এলাকায় ইয়ামিন, চরলক্ষ্যা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় পাইকারি চোলাই মদ বিক্রি করে কানা সাবের। শিকলবাহা কর্ণফুলী গার্ডেন এলাকায় মো. মজিব, চরলক্ষ্যা বলীর গোষ্ঠীর বাড়ি এলাকায় নজরুল ও তার স্ত্রী, চর পাথরঘাটায় শুক্কুর ও খোরশেদ আলম এবং ইছানগর এলাকায় মো. দিলু নিয়মিত চোলাই মদ বিক্রি করে।

নগরীর পতেঙ্গা থানার নেভাল কলোনিতে টুনু, সি-বিচে সুমন, বিজয় নগরে মো. জাফর, সোহরাব, ইয়াবা ব্যবসায়ী ইয়ারু প্রকাশ ইয়ারগে (পুলিশের র্সোস), ১৪ নম্বর ঘাট এলাকায় লালুনী, নিজাম মার্কেট এলাকা জামাল হোসেন, ইসলাম কমিশনারের বাড়ি ও মাজারগলিতে মো. রাজু।

ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিংয়ের আমজাদ (মদ বিক্রেতা), শাহিন (মদ ও গাঁজা বিক্রেতা), সাদেক (মদ বিক্রেতা), আফরোজা (মদ ও গাঁজা বিক্রেতা), আব্দুর রহিম (মদ বিক্রেতা)।

ভেড়িবাঁধ এলাকায় দুলাল, ইপিজেড মন্দিরের পাশে মনির প্রকাশ বরিশাইল্ল্যা মনির ও ইয়াসিন, ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়াহাটে সবচেয়ে বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী মনজু। গত বছর ৬৫ লাখ টাকার বিশাল ইয়াবার চালানসহ তাদের আটক করে ইপিজেড থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব-৭।

এ ছাড়া রয়েছে নয়ারহাটে রনি, ইসলাম, কাশেম, জুয়েল। এদের প্রত্যেকের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় থানা সূত্রে জানা গেছে।

ইপিজেড থানার লেবার কলোনি এলাকায় বড় মাদক ব্যবসায়ী জাবেদ। কোনো রাখঢাক ছাড়াই মদ ও ইয়াবা বিক্রি করা তার বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া মাইলের মাথায় জাহিদ, দারুস সালাম মসজিদের সামনে ল্যাংড়া মনির, ইপিজেড থানার পাশে মাদ্রাসা এলাকায় খোকন, বন্দরটিলা এলাকায় আক্কাস।

বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গা ব্রিজের পাশে ইকবাল ও সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় জাহিদ নিয়মিত মাদক বিক্রি করে। আকবর শাহ থানা এলাকার নিউ শহীদ লেইনে মাদক বিক্রি করে সহিদ, হাসেম, রীনা আক্তার, পাখি আক্তার, দুলাল, কামাল ও জামাল, জেসমিন আক্তার, মো. জাফর। তাদের মতো পিরোজশাহ মিনার এলাকায় আফছার উদ্দিন, জানারখীল নাজির কমিশনার বাড়ি এলাকায় মো. বশর, উত্তর কাট্টলী কালিবাড়ি, পাক্কা রাস্তার মাথা, রেললাইন এলাকায় বাবুল লেদু, লিটন ও রাসেল। সিগন্যাল কলোনিতে ফাতেমা, গার্লস স্কুলের সামনে ভেসপা সেলিম মাদক বিক্রি করে।

পাহাড়তলির নোয়াপাড়া এলাকায় ফরিদের স্ত্রী, মাটিল্ল্যাপাড়ায় ডাইল নুর ইউসুফ, আবুল বিড়ি ফ্যাক্টরি রোড এলাকায় আলী ভান্ডারী, কাজীর দিঘির মোড়ে জনৈক পারভীনের মা, রেললাইন গেটে নুরজাহান, সিগন্যাল কলোনিতে নেতা বাবুল, বেলার, জহুরা, জাকি হোসেন, রূপবান কলোনিতে জাহিদ, হাক্কানী কলোনিতে রাজীব মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

হালিশহর থানার ছোটপুলে ডাইল করিম, ইউছু, হাতকাটা আলি, ভান্ডারী। ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলি বাজারে মনি, পাখির মা, এসআরবি বাংলা বাজারে বরিশাইল্ল্যা মিন্টু, আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠে ময়না, ডেবারপাড়ে শামীমা আক্তার, চৌমুহনীতে আবু, চান্দগাঁও থানায় মেসতা চৌধুরীঘাট, পল্টন বাড়ি, কাপ্তাই রাস্তার মাথায় রৌশনী, রাহাত্তারপুল, এজাহার মিয়ার বাড়িতে রোকসানা আক্তার, কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে ইস্কান্দর, বয়েজিদ থানার বাস্তুহারা বার্মা কলোনিতে জুলেখা, রেজিয়া, হোসেন ওরফে বুলু, রৌফাবাদ রেল লাইনের পাশে লিয়াকত ভান্ডারী, শান্তিনগরে বিউটি ও বাংলাবাজারে রতœা মাদকের ব্যবসা করেন নিয়মিত।

খুলশী থানার টাঙ্কির পাহাড় এলাকায় জুয়েল, সোহাগী, হাসিনার মা রুমা ও সেলিমের বৌ। পাঁচলাইশ থানার খতিবের হাটে ইদুলী, ষোলশহর রেল স্টেশনে লাদেন ও চমেক হাসপাতালের সামনে মুফিয়া মাদক বিক্রি করে নিয়মিত। সদরঘাট থানার মাদক বিক্রেতারা হলো মাদারবাড়ি রেল গেটে মনোয়ারা, রেলবিট পানির ট্যাংকি এলাকায় মাহাম্মদু, মনির, মিন্টু ওরফে বরিশাইল্ল্যাা মিন্টু।

চকবাজার থানায় চকসুপার মার্কেটে শাহ আলম, ধনিরপুলে বাবুল, চাঁনমিয়া মুন্সী লেন, ডিসি রোডে তৈয়ব ও কাপাসঘোলা ব্রিজ সংলগ্ন গলিতে আজিজুল হক ওরফে নাহিদ। আর বাকলিয়া থানায় তুলাতলি জামাই বাজারে শাহজাহান, বদিয়ার টেকে শফি, বালুরমাঠ ইছাহাইক্যা পুলে আবদুল হালিম, ডাইল বেপারির গলিতে বাতেন, জসিম উদ্দিন, সাজ্জাদ হোসেন, বাবুল হোসেন, মাস্টারপুলে মতি, তকতার পুলে শানু ও সেলিম পেশাদার মাদক বিক্রেতা।

কোতোয়ালি থানার জামতলা বস্তিতে ইদু, সুফিয়া, লাইলি, বরিশাল কলোনীতে মনির, স্টেশন কলোনিতে কামাল, পুরাতন রেলস্টেশনে রহিমা, বয়লার কলোনিতে আলো, বিআরটিসি মোড়ে জাহাঙ্গীর, পলোগ্রাউন্ড মাঠের পেছনে জসিম, ইকবাল রোডে গোপাল, সুভাষ, কলা বাগিচায় কৃঞ্চ, সাগর, রঞ্জিত, ব্রিকফিল্ড রোডে পারভেজ, স্বপন, ফিশারীঘাটে রমজান, জাহাঙ্গীর, ব্যাটারি গলিতে ওয়াসিম ও চট্টগ্রাম ক্লাবের পাশে খোকন মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্টো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চট্টগ্রামে অভিযানে চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

 

Leave a Reply